জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল মেহেরপুরের মুজিবনগরের মানিকগর গ্রামের মেহেদী হাসান মুন্না। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বাবা জুলফিকার মল্লিক ও মা মনোয়ারা বেগম। তখন তারা মানত করেন-আল্লাহ যদি তাদের ছেলেকে সুস্থ করে তোলেন, তবে ছেলের বিয়ের দিন আল্লাহর ঘরে একটি গরু দান করবেন এবং ঘোড়ায় চড়ে পালকিতে করে পুত্রবধূ আনবেন।
বছরের পর বছর ছেলেকে পরম যত্নে বড় করেন তারা। আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ হয়ে ওঠেন মেহেদী হাসান মুন্না। সেই মানত পূরণে গতকাল শুক্রবার পালিত হলো ব্যতিক্রমী এক বিয়ের আয়োজন। আলোকসজ্জা আর উৎসবের মধ্যদিয়ে মানিকগরের জুলফিকার মল্লিকের ছেলে মেহেদী হাসান মুন্নার সঙ্গে ভবরপাড়া গ্রামের আয়োব নবী মোল্লার মেয়ে তামান্না খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর পালকিতে চড়ে কনে আনতে আসেন, আর কনের বাড়ি থেকে যাবার সময় বর ঘোড়ায় চড়ে যান আর কনে পালকিতে। আগে আল্লাহর ঘরে দান করেন একটি গরু।
সাধারণ এক বিয়ে নয়-এই আয়োজন ছিল এক মানসিক নিয়োতের পূর্ণতা। গ্রামবাসীর মধ্যে ছিল আনন্দ, বিস্ময় আর উৎসবের আমেজ। অনেকে বলছিলেন- ‘এমন বিয়ে এখন আর দেখা যায় না, যেন গল্পের মতো এক বাস্তব আয়োজন।’ বাবা জুলফিকার মল্লিক বলেন, ‘আমার ছেলের জীবন আল্লাহর দান। এই আয়োজন তারই শুকরিয়া। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কথা রেখেছি। এখন আমার হৃদয় শান্ত।’ এই ব্যতিক্রমী বিয়ে ঘিরে এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে প্রশংসা আর অনুপ্রেরণার জোয়ার।’
মুজিবনগর অফিস