রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দুই হাত ও এক পা হারিয়ে জীবনের সঙ্গে ৩৬ বছরের সংগ্রাম

ভিক্ষার টাকা দিয়ে ভ্যান কিনে চালান সংসার
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৭-২০২৫ ইং
দুই হাত ও এক পা হারিয়ে জীবনের সঙ্গে ৩৬ বছরের সংগ্রাম

জীবন মানেই সংগ্রাম- এই কথাটির জীবন্ত উদাহরণ দর্শনার বকুল শাহ। দুই হাত ও এক পা ট্রেনে কেটে গেলেও থেমে থাকেনি তার পথচলা। ৩৬ বছর ধরে ভিক্ষার টাকায় সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন তিনি। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা শান্তিপাড়ার সবুজ শাহ-এর ছেলে বকুল শাহ (৬৪)। তিনি জানান, ‘তখন বয়স ১৬-১৭ বছর। পার্বতীপুর থেকে চাল এনে দর্শনায় বিক্রি করে সংসার চালাতাম। একদিন রকেট মেইল ট্রেনে পার্বতীপুর যাচ্ছিলাম। পথের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার গাইদঘাট এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে।’


১৯৭৯ সালের ওই দুর্ঘটনায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রকেট মেইল ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে, যাতে ৭৪ জন যাত্রী নিহত হন এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হন। বকুল শাহ ছিলেন সেই দুর্ঘটনার অন্যতম শিকার। তার দুই হাত এবং একটি পা কেটে যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেঁচে গেলেও ফিরে পাননি হাত বা পা। প্রথমে বসে বসে ভিক্ষা করতেন। তবে ৩-৪ বছর আগে কিছু ভিক্ষার টাকা জমিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান কেনেন। এখন ডান পা দিয়ে হ্যান্ডেল চেপে ভ্যান চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করেন।


বকুল শাহ জানান, ‘ছেলে রাজু, মেয়ে বুলবুলি আর চন্দিনা- সবার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আমি আর আমার স্ত্রী দুজন মিলে কোনোমতে খেয়ে পরে বেঁচে আছি। প্রতিবন্ধী ভাতা পান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। তবে শুধু ভাতা নয়, সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাই আমার মূল শক্তি।’ দুই হাত ও একটি পা না থাকলেও জীবনকে হার না মানা এক অদম্য সাহসের নাম বকুল শাহ। যাঁর গল্প হতে পারে অনেকের জন্য প্রেরণার উৎস।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত