রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মহেশপুর আদালতে বেশির ভাগ মামলার কোর্ট ফি জাল

দোকানে মিলছে ভুয়া স্ট্যাম্প, তদন্তে পুলিশ
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৭-২০২৫ ইং
মহেশপুর আদালতে বেশির ভাগ মামলার কোর্ট ফি জাল

ঝিনাইদহের মহেশপুর আদালত চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাল কোর্ট ফি। আদালতের পাশে স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও ফটোকপির দোকানগুলোর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই অনৈতিক কাজ চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি লাভবান হচ্ছে একটি দুর্বৃত্ত চক্র।


সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলার আবেদনপত্রে লাগানো কোর্ট ফি নিয়ে সন্দেহ হয় বিচারকের। বিচারক নির্দেশ দিলে গত ৮ জুলাই কোর্ট ফি যাচাই করা হয়। মেশিনে পরীক্ষা করতেই ধরা পড়ে ফাঁকি-আবেদনে লাগানো কোর্ট ফি জাল! শুধু তাই নয়, এরপর একাধিক মামলার আবেদনে লাগানো কোর্ট ফিও যাচাই করে দেখা যায়, অধিকাংশই জাল।


জাল কোর্ট ফিগুলোর কোথাও সরকারি জলছাপ, সিরিয়াল নম্বর কিংবা বৈধতা যাচাইয়ের কোনো চিহ্ন ছিল না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে আদালতের সেরেস্তাদার আবু সাঈদ বাদী হয়ে গত ১০ জুলাই মহেশপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
আদালত সূত্র বলছে, কোর্ট প্রাঙ্গণের আশপাশের কিছু স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও ফটোকপির দোকানে দীর্ঘদিন ধরেই ৫, ১০ ও ২০ টাকার কোর্ট ফি বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ২০ টাকার কোর্ট ফিতেই বেশি ভুয়া কাগজ ধরা পড়েছে। আইনজীবী সহকারীরা জানান, তারা স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের দোকান থেকেই কোর্ট ফি সংগ্রহ করেন। যাচাই করার কোনো যন্ত্র না থাকায় কাগজটি আসল না জাল, তা বোঝার উপায় থাকে না।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্ট্যাম্প ভেন্ডার বাবর আলী বলেন, ‘আমার দোকানে বিক্রি হওয়া কোনো কোর্ট ফি এখন পর্যন্ত জাল প্রমাণিত হয়নি। তবে শুনেছি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় নকল কোর্ট ফি বিক্রি করছে। সাধারণ মানুষ বুঝতেও পারছে না তারা জাল কাগজ কিনছে।’ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তাদার আবু সাঈদ বলেন, ‘জাল কোর্ট ফি শনাক্ত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে আমরা পরীক্ষা করেছি। বেশিরভাগই জাল ছিল। তাই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’


মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান সাজু বলেন, ‘তদন্ত শুরু হয়েছে। আদালতের সরবরাহকৃত জাল কোর্ট ফি ও সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে, জাল কোর্ট ফি সংক্রান্ত এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। আদালতের আশপাশের দোকানগুলোতে চলছে নজরদারি। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কারসাজি চললেও প্রশাসনের উদাসীনতায় তা রুখে দেওয়া যায়নি। এখন তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিকেই তাকিয়ে সবাই।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত