বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
গাংনীর চিৎলা পাটবীজ খামারে ‘নাজিম বাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে প্রকৃত শ্রমিকরা

খামারে লুটপাট-দুর্নীতির মহোৎসব, গেস্ট হাউজে বিলাসী জীবন

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৭-২০২৫ ইং
খামারে লুটপাট-দুর্নীতির মহোৎসব, গেস্ট হাউজে বিলাসী জীবন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎলা পাটবীজ খামার এখন যেন ‘নাজিম বাহিনীর’ রাজত্বে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, খামারটি এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভয়ারণ্য। অভিযোগ রয়েছে, খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলাম ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দেবদাস সাহার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে এই বাহিনী। ‘নাজিম বাহিনী’র নেতৃত্বে রয়েছেন নাজিম উদ্দীন। তার সহযোগী শাহাদত হোসেনসহ কয়েকজন মিলেই গড়ে তুলেছেন খামারের নিয়ন্ত্রণ। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা খামারের গেস্ট হাউজ দখল করে এসি রুমে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। রান্নাসহ নানা সুবিধা নিচ্ছেন সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।


জানা গেছে, বর্তমানে গেস্ট হাউজ, জেডির অফিস, তিনটি গোডাউন ও আনসার ক্যাম্প ছাড়া খামারের অন্যান্য ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে প্রকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাইরে ভাড়া বাসায় থাকছেন, আর গেস্ট হাউজে আরাম আয়েশে আছেন নাজিম ও শাহাদত। আনসার ক্যাম্পে থাকার অনুমতি থাকলেও তারা অবস্থান করছেন গেস্ট হাউজে। অভিযোগ আছে, শাহাদত হোসেন খামারের ভেতরেই জেডির পৃষ্ঠপোষকতায় হাঁস-মুরগির খামার পরিচালনা করছেন। খামারের উৎপাদিত ধান ও গম সেখানে হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।


একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভুয়া শ্রমিক তালিকা, রাতের আঁধারে খামারের ধান, গম, আলু, সার, কীটনাশক, তেল, এমনকি পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশও চুরি করে বিক্রি করছে এই বাহিনী।’ তারা আরও জানান, গ্যারেজে থাকা স্টিলের খুঁটি, এসএস পাইপ, গ্রিল, ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ এবং বড় বড় গাছ পর্যন্ত বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। কেউ প্রতিবাদ করলেই জেডি ও নাজিমের যৌথ চক্রান্তে তাকে খামার থেকে বের করে দেওয়া হয়। গ্যারেজ মেকানিক, ট্রাক্টর চালক ও সাধারণ শ্রমিকেরা আতঙ্কে কাজ করছেন


আরও অভিযোগ, জেডির রাঁধুনির নামে শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি হাজিরা নিচ্ছেন, অথচ কাজের বালাই নেই। খাতায় নাজিম একজন শ্রমিক হিসেবে থাকলেও বাস্তবে পুরো খামার তার নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয় শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বাইরের জেলা থেকে আনা হয়েছে নাজিম ও শাহাদতকে। শ্রমিকদের অভিযোগ, জেডির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে এই বাহিনী। উপ-পরিচালকরাও নাজিমের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না। জিএম দেবদাস সাহা সবকিছু জানেন, তবুও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না-অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বরং মৌখিক অনুমোদনও দিয়েছেন বলে দাবি করছেন অনেকে।
সরকারি খামারে এভাবে দুর্নীতি, দখলদারি ও সম্পদের অপচয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে নাজিম উদ্দিন নিজেকে খামারের ট্রাক্টর চালক হিসেবে পরিচয় দেন। নিয়োগপত্র দেখাতে না পারলেও জানান, মাস্টাররোলে তিনি দিন হাজিরায় কাজ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। জেডি মোর্শেদুল ইসলাম ও জিএম দেবদাস সাহার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

দর্শনা ডিএস মাদ্রাসায় ১১ বছরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ