রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চান মিয়া ওরফে সোহাগকে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। চুয়াডাঙ্গা, জীবননগর ও মেহেরপুরেও প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে দ্রুত বিচার, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
পুরান ঢাকার স্যার সেলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোডর্) হাসপাতাল চত্বরে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চান মিয়া ওরফে সোহাগকে পাথর দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে ‘বিপ্লবী ছাত্রসমাজ’ ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কী ভয়ানকভাবে মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে একজন মানুষকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এই পাথরের ভার শুধু সোহাগ ভাইয়ের বুকে নয়-ছাত্রসমাজের বুকেও এই ভার নেমে এসেছে। খুনির কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। খুনির পরিচয় একটাই-সে খুনি। কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় খুন, গুম, ধর্ষণ ঘটলে এবং কেবল দল থেকে বহিষ্কার করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলে জনগণ ও ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে স্পষ্ট করে বলতে চাই-আপনাদের দলের নাম ভাঙিয়ে যারা চাঁদাবাজি ও খুন করছে, তাদের দমন করুন কঠোরভাবে।’ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাফ্ফাতুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মাহাবুব ইসলাম আকাশ, হাসনা জাহান খুশবু, তাসনিয়া আফসিন, নুসরাত জাহান মৌলি, আঞ্জুম হাবিবা প্রমুখ।
জীবননগর:
জীবননগর উপজেলায় একই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গতকাল বিকেল ৫টায় জীবননগর বাসস্ট্যান্ড উন্মুক্ত চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে ফিরে আসে। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জীবননগর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, ‘জুলাই মাস এখনও শেষ হয়নি, এর মধ্যেই একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ভিডিও দেখেছি, তা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায়নি। যারা একজন শিক্ষার্থীকে পাথর মেরে হত্যা করতে পারে, তাদের হৃদয়ে দয়া-মায়া নেই। তারা চরম নিষ্ঠুর।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে সারা দেশের ছাত্রসমাজ আবারও আন্দোলনে নামবে। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই-চাঁদাবাজি বন্ধ করুন, মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। তা না হলে আপনাদের পরিণতি হবে শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারীর পরিণতি।’ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ জীবননগর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা কে এম সাইফুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, এস এম মুস্তাফিজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জীবননগর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা লুৎফর সরকার। বক্তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
মেহেরপুর:
রাজধানীর মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মেহেরপুরেও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকেলে মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে ‘মেহেরপুরের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাতে একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের জন্য শোকের নয়, এটি দেশের প্রতিটি ব্যবসায়ীর জন্য হুমকি।’ তারা বলেন, ‘সোহাগ হত্যার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। এটি নিছক কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন।’ এদিকে, সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। যাতে লেখা ছিল- ‘সোহাগ হত্যার বিচার চাই’, ‘চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, ‘ব্যবসায়ী হত্যার রাজনীতি বন্ধ করো’ ইত্যাদি স্লোগান।
সমীকরণ প্রতিবেদন