দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত মহেশপুরের গৌরিনাথপুর গ্রামটি এখন ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত। ড্রাগনের মৌ মৌ গন্ধে সারা গ্রাম সুবাসিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ব্যাপারীরা আসছেন ড্রাগন ফল কিনতে। ফলে গ্রামটির নাম এখন “ড্রাগনের রাজধানী”। প্রতিদিন এই বাজারে ৬০ থেকে কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে।
এলাকা ঘুরে জানা গেছে, আগে এখানকার কৃষকরা ধান, পাট ও সবজি চাষ করতেন। ২০১৬ সালে শখের বশে কেউ কেউ ড্রাগ চাষ করে সফলতা পান। ধীরে ধীরে ড্রাগান চাষ বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয়। বর্তমান মহেশপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার’শ হেক্টর জমিতে এই চাষ হচ্ছে।
এদিকে গৌরিনাথপুর ড্রাগন বাজার ঘিরে জমে উঠেছে পুরোদস্তুর একটি কৃষি-অর্থনীতি। চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে ড্রাগন চাষিরা তাদের ক্ষেতের ড্রাগন বিক্রি করতে আসেন গৌরীনাথপুরে। শুধু স্থানীয় ক্রেতারাই নন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারীরাও এখান থেকে ট্রাক ভর্তি করে ড্রাগন ফল কিনে নিয়ে যান রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে। গৌরিনাথপুর বাজারে রয়েছে ৭৪টি আড়ত।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ড্রাগন ফলের চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। গৌরীনাথপুর বাজারে এখন অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত বলেও তিনি জানান।
গৌরীনাথপুর ড্রাগন বাজার কমিটির সভাপতি সোহাগ হোসেন জানান, আগে দুই একর জমিতে ধান করে যা আয় হতো, এখন এক একর জমিতেই তার দ্বিগুণ আয় হয় ড্রাগন করে। সারাবছর ফল আসে, বাজার হাতের কাছে বলে এই চাষে এলঅকার মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
বাজার কমিটির নেতা ইসমাইল ও নাজমুল জানান, ড্রাগনের জন্য নির্দিষ্ট হিমঘর, মান নিয়ন্ত্রণের ল্যাব, প্রশিক্ষিত বাগান ব্যবস্থাপক, ও সুষ্ঠু রপ্তানিনীতির অভাব মেটানো গেলে এই চাষ করে কৃষকরা আরো সুফল পেতো।
আড়তদার মনিরুল ইসলাম বলেন, চাহিদা অনেক, কিন্তু অনেক সময় সংরক্ষণের অভাবে ফল নষ্ট হয়। সরকার যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হিমাগার করে দিত. তাহলে এখান থেকে বিদেশেও ড্রাগন রপ্তানি সম্ভব হতো।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ষষ্টি চন্দ্র রায় বলেন, গৌরীনাথপুর এখন শুধু একটি বাজার নয়, একটি দৃষ্টান্ত। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের সম্ভাবনার একটি নতুন গল্প।
ঝিনাইদহ অফিস