বিজিবির কড়া নজরদারি ও অভিযানের সত্ত্বেও ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে মানবপাচার ও চোরাচালান উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনোভাবেই সীমান্ত পারাপার ও চোরাচালান ঠেকানো যাচ্ছে না। অনেক সময় ভিন্ন কৌশল নিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশিদের পুশইন করছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মাত্র দুই মাসে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৮২১ জনকে সীমান্ত এলাকা আটক করেছে বিজিবি। বিজিবি এসময় তিন কোটি ৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবি সূত্র জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে ৩ জন ভারতীয় নাগরিক, ৪ জন দালাল ও ৬ জন মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়েছে। তবে মহেশপুর সীমান্তে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। ফলে মাদক ও চোরাই পণ্যের বেশির ভাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় পাচ্ছে বিজিবি। স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত এভাবে নারী, পুরুষ ও শিশু আটক হওয়া এই এলাকায় মানবপাচার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। তারা মনে করছেন, পাচারচক্রের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সক্রিয় দালাল চক্রকে আটক করা না গেলে মানবপাচার থামবে না।
সীমান্ত এলাকার মানুষ মনে করে, বাংলাদেশের ওপারে রয়েছে শিলিগুড়ি হাইওয়ে। বাংলাদেশ থেকে মানুষ ওপারে গিয়ে শিলিগুড়ি হাইওয়ে দিয়ে সহজেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলে যেতে পারে। এ কারণে মহেশপুর সীমান্তকে তারা নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। তাছাড়া ৫৭ কিলোমিটার ব্যাপী মহেশপুর সীমান্তের প্রায় ৮ কিলোমিটার কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। পাচারকারী ও চোরাচালানের সঙ্গে যুক্তরা কাঁটাতার বিহীন এই রুট ব্যবহার করে থাকে।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর সীমান্তকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। ঝিনাইদহ, মহেশপুর, নড়াইল, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা এলাকার ৮৫ জন ও ভারতের ধানতলা থানার সিলবাড়ি, হাঁসখালী থানার রামনগর ও কুমারি গ্রামের ১২ জন মানব, সোনা, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন থানায় তাদের নামে মামলাও আছে। কিন্তু তাদের বিজিবি আটক করতে পারে না। তালিকাভুক্ত এই চোরাকারবারিরা অধরা থেকে যায় সব সময়।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সিইও রফিকুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে আগের মতো গেট খুলে দিয়ে পুশইনের মতো ঘটনা বন্ধ হয়েছে। আমরা বিএসএফের সঙ্গে পুশইন বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর তারা আর পুশইন করার চেষ্টা করেনি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফের হাতে আটক হচ্ছে। বিএসএফ আমাদের জানানোর পরে আটককৃতরা বাংলাদেশি কিনা যাচাই-বাছাই শেষে সেটি নিশ্চিত হওয়ার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির কারণেই কিন্তু মাদক, সোনা ও অবৈধ প্রবেশকারীরা ধরা পড়ছে। মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ মাসে বিজিবি ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পর তা ধ্বংস করে। এতে বোঝা যায় মহেশপুর সীমান্ত মাদকের গেটওয়ে হিসেবে চোরাকারবারিরা ব্যবহার করছে।
ঝিনাইদহ অফিস