রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মুজিবনগরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে কোটি টাকার হাট ভবন

সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা
  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৭-২০২৫ ইং
মুজিবনগরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে কোটি টাকার হাট ভবন

মেহেরপুরের মুজিবনগরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেদারগঞ্জ গ্রামীহাট মার্কেট ভবনটি এখন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এক সময় যেখানে ছিল বাণিজ্যের প্রাণচাঞ্চল্য, আজ সেখানে ভবনের ছাদে ফাটল, জানালার কাঁচ ভাঙা, মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে জলধারা এবং চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লার দুর্গন্ধ-সব মিলিয়ে এটি এখন সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলাই এর মূল কারণ। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির অবকাঠামো ভেঙে পড়ছে। অথচ প্রতিদিন হাটে আসা শত শত মানুষ ও ব্যবসায়ী নানামুখী ভোগান্তিতে পড়ছেন।


ব্যবসায়ী মইনুদ্দিন কসাই বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে ভবন বানানো হলো, এখন সেটা পড়ে আছে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। আমরা বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে বসে ব্যবসা করছি। হাট ভবনটি অবহেলায় ফেলে না রেখে ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া উচিৎ।’


স্থানীয় বাসিন্দা সেতার আলী বলেন, ‘ভবনটি যখন নির্মিত হয়, খুব সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং মুজিবনগরের অর্থনৈতিক অবকাঠামো আরও ভালো হবে। কিন্তু, এখন দেখলে কষ্ট লাগে। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, জানালা নেই, ব্যবহারের কোনো উপযোগিতাও হারাচ্ছে দিন দিন।’


ব্যবসায়ী নিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে অনেকবার বলেছি-ভবনটি যেন সংস্কার করা হয়। কিন্তু কারো কোনো সাড়া নেই। হাটের দিনে মানুষে গিজগিজ করে, ভবনটি ঠিক থাকলে ভিড়টা কিছুটা কমত। খোলা আকাশের নিচে আমরা ব্যবসা করছি। ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী করে দিলে ব্যবসায়ীরা একটি ছাদ পেতো।’


এদিকে, মুজিবনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে ভবনটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর থেকে আমাদের আর কোনো দায়িত্ব নেই। কেন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না, তা আমার জানা নেই।’


হাট ভবনের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পলাশ মন্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। ভবনের সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এখনো বরাদ্দ মঞ্জুর হয়নি, তবে অচিরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জনগণের করের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো যেন এভাবে অবহেলায় পড়ে না থাকে। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে ভবনটি হাট ব্যবস্থাপনায় কার্যকর করা হোক-এটাই তাদের প্রত্যাশা।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত