চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর শহরের দত্তনগর সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। প্রতিদিনের আবর্জনায় রাস্তাটি পরিণত হয়েছে দুর্গন্ধের দুর্গে। পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের ময়লা-আবর্জনা সরাসরি সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে-এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জীবননগর-দত্তনগর সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। পথচারীদের নাক চেপে চলতে হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি ভয়াবহ হুমকিতে রূপ নিয়েছে। সড়কের পাশে রয়েছে জীবননগর আলিয়া মাদ্রাসা এবং দুটি বেসরকারি মাদ্রাসা। মাত্র ২০০ গজ দূরত্বে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ময়লার গন্ধ সহ্য করে চলাফেরা করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই এর ফলে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা রোগে ভুগছেন।
তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই মাস্ক পরে ক্লাসে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।’ আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আকিদুল ইসলাম জানায়, ‘বর্ষাকালে রাস্তায় জমে থাকা ময়লার পানি ভারী যানবাহনের চাপে ছিটকে আমাদের গায়ে পড়ে। এতে আমরা নানা রোগে ভুগি। রাস্তা পার হতে হলে নাক বন্ধ করে যেতে হয়।’ পথচারী আলী আহম্মদ বলেন, ‘দুর্গন্ধের কারণে চলাফেরা করা দুষ্কর। পচা গন্ধে নানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।’
ভ্যানযাত্রী সোনিয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না। এত কষ্ট করে চলাফেরা করতে হয়! দ্রুত পরিষ্কার না করলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।’ আরেক পথচারী আক্কাস আলী বলেন, ‘এই রাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। দুর্গন্ধের কারণে সবাই নাক চেপে হেঁটে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলিয়া গ্রামের বাড়ভাঙ্গা এলাকায় ময়লা ফেলা হতো। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা না করেই সড়কের পাশে ময়লা, হোটেলের বর্জ্য, মুরগির নাড়িভুঁড়ি ফেলা শুরু হয়।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ থেকে মানবদেহে নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি তৈরি হয়।’ জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। পৌরসভার ময়লা ফেলানোর নির্দিষ্ট জমি নেই। বর্তমানে জমি খোঁজা হচ্ছে। উপযুক্ত জমি পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।’
জীবননগর অফিস