ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কোলা ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আলাউদ্দিন আল আজাদের বেপরোয়া স্বভাবের কাছে এখনো অতিষ্ঠ হচ্ছেন অনেকেই। এরই মধ্যে উঠেছে পরিষদের চিঠিপত্র ও প্রজেক্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে জানাতে ইউপি সচিবকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের নারী উদ্যোক্তা রানী ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোলা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসব কাণ্ড ঘটান তিনি।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ইউপি সচিব সোহাগ আলীর সাথে কথা বলার সময়ের একটি ভিডিও চিত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার সড়াবাড়িয়া এলাকার মাসুদ হোসেন, পারিয়াট গ্রামের হারুন, খড়িকাডাঙ্গা গ্রামের জহির ও পার্শ্ববর্তী জামাল ইউনিয়নের দুইজনসহ মোট ৫ জন পরিষদে প্রবেশ করেন। এসময় ইউপি সচিব সোহাগ আলী সভা কক্ষের সামনে চেয়ারে বসা ছিলেন।
ভিডিও চিত্রে মাসুদ বলছিলেন, ‘পরিষদের কাজ কি বন্ধ আছে, নাকি সব চলছে? জাফর মেম্বারের কোনো কার্যকলাপ এখানে চলবে না। কাজ-কাম যেখানে যাই হোক চিঠি আপনি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদের কাছে দিবেন। এর বাইরে কোথাও যাবে না। এই কথার পরে আপনি হিসাবকিতাব মিলিয়ে যদি ওই লাইনে কাজ করলেন তাহলে আপনারও সমস্যা হবে, আর যারা প্রতিপক্ষ ওদেরও সমস্যা হবে। এখন আর ছাড় দেওয়ার মতো কোনো সুযোগ নেই। আপনি সরকারি চাকরি করতে এসেছেন। আপনার সাথে আমার কোন খারাপ কথা বলার যুক্তি নেই।’
মাসুদ আরোও বলেন, ‘কোন মেম্বরদের কোন কাজ এখন নেই, সব ঠান্ডা। আওয়ামী লীগের সময়ের চেয়ারম্যান যদি পরিষদে না আসতে পারে তাহলে মেম্বরদের তো কোন কাজ নেই। চেয়ারম্যানের বাইরে কোনো কাজ যেন হয় না, হলে সমস্যা হবে।’
খাঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাসুদ হোসেন এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলা করতে কোলা বাজারে প্রকাশ্যে দা নিয়ে মহড়া দিয়েছেন একাধিকবার। বরখাস্ত চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদের খুব আস্থাভাজন এই মাসুদ। অস্ত্র মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারেও ছিলেন তিনি।
কোলা ইউনিয়নের নারী উদ্যোক্তা রাণী ইসলাম বলেন, ‘মাসুদ, হারুন ও জহিরসহ ৫ জন এসেছিল ইউনিয়ন পরিষদে। তারা এসে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছিল। এসময় তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। যা মুখে নেওয়া সম্ভব না।’ রাণী অভিযোগ করেন, এ সময় তার হাতে থাকা ফোনও কেড়ে নেয়া হয়। পরে যাওয়ার সময় ফেরত দেয়া হয়।’
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সোহাগ আলী বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি এসেছিল। তারা সকল চিঠিপত্র ও প্রজেক্টের তথ্য চেয়ারম্যানকে দিতে বলেছে। না দিলে সমস্যা হবেও বলে গেছে। এছাড়াও তারা নারী উদ্যোক্তার সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেছে।’ সচিব আরোও বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর কোলা ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে। সরকারি আদেশের বাইরে কিছুই করার নেই।’
এ ব্যাপারে জানতে মাসুদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পল্লি উন্নয়ন অফিসার মো. খাইরুল হক বলেন, ‘ইউপি সচিব বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. দেদারুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ইউপি সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।’
ঝিনাইদহ অফিস