মৃত মানুষের নামে তালিকা বানিয়ে চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট প্রোগ্রামের (ভিডব্লিউবি) আওতায় বরাদ্দ পাওয়া চাল, মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং কৃষি প্রণোদনাও হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এমনকি খাজনা আদায়ের টাকা ব্যাংকে না রেখে নিজ ইচ্ছেমতো তসরুফ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপু মামলা-সংক্রান্ত কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সারগিদুল ইসলাম। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। চলতি বছরের ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্রদের জন্য সরকার ১০ কেজি করে তিন হাজার দুই শতাধিক চাল বরাদ্দ দেয়। সেই বরাদ্দের তালিকায় ২৯৭১ নম্বরে থাকা গোপালনগরের মোফাজ্জেল হক, যিনি গত বছরের ৭ এপ্রিল মারা গেছেন, তাকেও চাল দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এমন অনেক মৃত ব্যক্তির নামেই চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
মৃত মোফাজ্জেলের ছেলে মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একজনের মাধ্যমে আমি ১০ কেজি চাল পেয়েছি। বাবার নামে চাল বরাদ্দ হয়েছে কি না জানি না।’ চাঁদপুর গ্রামের আবুছদ্দীন বলেন, ‘আমার বরাদ্দ ৫ মাসের হলেও পেয়েছি ৩ মাসের চাল। অন্য দুই মাসের চাল আমাকে দেয়া হয়নি। একই অভিযোগ করেন শিমুলতলা গ্রামের রেক্সনা খাতুন। তিনি ৫ মাসের বরাদ্দের মধ্যে চাল পেয়েছেন মাত্র ২ মাসের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, ‘মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের জিম্মি করে রেখেছেন সারগিদুল। তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড, কৃষি প্রণোদনা ও খাজনার টাকাও গায়েব করেছেন ইচ্ছেমতো।’ এদিকে, এসব অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সারগিদুল ইসলাম বলেন, ‘পত্রিকায় লিখে দেন, সমস্যা নেই। জেল-ফাঁসি যা হবার হবে।’ গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত মানুষের নামে চাল দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’
প্রতিবেদক গাংনী