রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চোখে দেখেন না ঠিক মতো, তবুও অ্যাম্বুলেন্স চালান!

মেডিকেল বোর্ডে অযোগ্য, ১৩ বার শোকজের পরও চাকরিতে বহাল ড্রাইভার বকুল
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৬-২০২৫ ইং
চোখে দেখেন না ঠিক মতো, তবুও অ্যাম্বুলেন্স চালান!

চোখে দেখেন না ঠিক মতো। অথচ অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে রোগী নিয়ে ঘটান দুর্ঘটনা। ক্ষতি করেন রাষ্ট্রীয় সম্পদের। এমনকি ১৩ বার শোকজ এবং কৈফিয়ত তলবের পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সরকারি হাসপাতালের গাড়িচালক হিসেবে। অথচ মেডিকেল বোর্ড তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে আগেই। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ আর বিস্ময় গোপন করতে পারছেন না। প্রশ্ন তুলছেন-ড্রাইভার বকুল মিয়ার খুটির জোর কোথায়? কেন তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে না?


ভাগ্যবান এই ড্রাইভারের নাম বকুল মিয়া। কখনো ঝিনাইদহ, কখনো কালীগঞ্জ বা শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-বিভিন্ন সময়ে বদলি হয়েছেন ঠিকই, তবে দায়িত্ব পালন করেছেন তার ছেলেরা-মিল্টন ও মিলন। ড্রাইভার বকুলের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও আওয়ামী লীগ আমলে তিনি থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং সরকারি গাড়ি আর প্রভাব খাটিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে। জানা গেছে, তার বাবা আব্দুল জলিল মিয়া এক সময় শৈলকূপা উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন।


সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১লা জানুয়ারি শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন অফিসের ২০/২৩ নম্বর স্মারকে অভিযোগ করেন, বকুল মিয়া নিজে অ্যাম্বুলেন্স না চালিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে গাড়ি চালান। পরের বছর ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বকুল মিয়ার ছেলে মিল্টনের চালানো অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়। অভিযোগ, সে সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করে ফেরত পাঠায়।


২০২৪ সালে কালীগঞ্জ হাসপাতালে বদলি হলেও বকুল মিয়া নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। ছুটি না নিয়েই কাজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ৫ মার্চ তাকে শোকজ করেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন। সন্তোষজনক জবাব দেননি তিনি।


২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য যশোর পাঠানো হলেও বকুল মিয়া চলে আসেন ঝিনাইদহে এবং রাত কাটান সেখানে। প্রশ্ন করলে উল্টো অসাদাচরণ করে রুম থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। এ ঘটনায় একের পর এক ৩২০, ৩১০, ২৩, ৭৮১ ও ৬৯৪ নম্বর স্মারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কর্তপাত করেননি।


পরবর্তীতে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়। ১০ জুন নিজে অ্যাম্বুলেন্স না চালিয়ে আবারও বহিরাগতদের দিয়ে চালাতে থাকেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২৩ জুন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সৈয়দ রেজাউল ইসলাম খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক বরাবর পত্র পাঠিয়ে অবহিত করেন। তবুও বহাল তবিয়তে বহিরাগতদের দিয়েই অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে যাচ্ছেন বকুল।


সবশেষ ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার দুলাল মুন্দিয়া এলাকায় তার দায়িত্বে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তদন্তে নামে তিন সদস্যের একটি কমিটি। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গুলশান আরা লিমা, ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাঈম সিদ্দিকী এবং মেডিকেল অফিসার ডা. রাজীব চক্রবর্তী-তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শেষে ৩১ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বকুল মিয়াকে ‘স্বাস্থ্যগত কারণে অযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়।


বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বকুল মিয়া স্বীকার করেন, তিনি অসুস্থ থাকায় মাঝেমধ্যে তার ছেলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকায় যান। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বকুল মিয়াকে শৈলকূপায় বদলি করা হয়েছে। এরপরও তিনি নিজে অ্যাম্বুলেন্স না চালালে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বদলির পর চাকরি বাঁচাতে ঢাকায় দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বকুল। শুধু তাই নয়, তার স্থলাভিষিক্ত যে চালককে পদায়ন করা হয়েছে, তাকেও হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত