ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জনতা ক্লিনিকে ডাক্তারের ‘ভুল সিজারিয়ান’ অপারেশনের কারণে আমেনা খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধূ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। গৃহবধূ আমেনার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হরিণাকুণ্ডু পৌর এলাকার টাওয়ার পাড়া গ্রামের নাজমুল হোসের সাথে ১০ বছর পূর্বে একই উপজেলার মান্দারতলা গ্রামের আলী হোসেনের কন্যা আমেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে পর পর দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এরপর আমেনা আবারো গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২১ মে আমেনা খাতুনকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শহরের জনতা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
এদিন রাতেই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আমেনা ও নাজমুল দম্পতির ঘরে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু অপারেশনের পর থেকেই আমেনার অবস্থা খারাপ হতে থাকে।
আমেনার স্বামী নাজমুল হোসেন জানান, ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে হরিণাকুণ্ডু জনতা ক্লিনিকে ঝিনাইদহ আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. জামিলুর রশীদ আমেনার ‘ভুল সিজারিয়ান’ অপারেশন করেন। আমেনান পেটের মধ্যে গর্ভফুল রেখেই ডাক্তার জামিরুল পেট সেলাই করে দেন। পরে রোগীর অবস্থা বেগতিক হয়ে পড়লে ডা. জামিরুল তাকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। গত ৬ জুন রোগীর প্রচণ্ড রক্তপাত শুরু হলে স্বজনরা আমেনাকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হয়ে পড়লে আমেনাকে ঝিনাইদহ শহরস্থ শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
আমেনার পিতা আলী হোসেন দাবি করেছেন, ডা. জামিরুল তড়িঘড়ি করে অপারেশন করে তার মেয়ে আমেনার জরায়ুর সাথে থাকা গর্ভফুল না ফেলে পেট সেলাই করে দেন। ফলে রোগীর জরায়ুতে দ্রুত ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। পরে শামীমা ক্লিনিকে ১৩ জুন রাতে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে আমেনার জরায়ু কেটে বাদ দেন ডাক্তাররা। এ পর্যন্ত আমেনার শরীরে ১১ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে গত রোববার বিেকলে ডা. জামিলুর রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রোগীর অপারেশনে সমস্যা নয়। অপারেশন পরবর্তী শারিরীক সমস্যা ছিলো। এজন্য রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে রোগী আমেনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ অফিস