ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বেলেমাঠ গ্রামে স্টোন ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার ছড়ানো বিষাক্ত গ্যাস, কালো ধোঁয়া ও গরম ছাইয়ে দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ৫০০ বিঘা জমির ফসল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে কৃষকের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।
এদিকে, জনরোষ থেকে বাঁচতে ইটভাটা মালিক পলাতক রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও ইটভাটা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন সুলতানা।
স্থানীয় কৃষক হাসানুজ্জামান জানান, পটল, ড্রাগন, কচু ও শতাধিক বীজতলায় আগুন লেগে সব পুড়ে গেছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফসলের এমন ধ্বংসযজ্ঞ আগে কখনো দেখেননি। একই অভিযোগ করেছেন কৃষক সন্টু মিয়া। তার ভাষায়, ‘গতকাল সকালে মাঠে গিয়ে দেখি চোখ-মুখ জ্বলছে। শুনি রাতে ইটভাটা থেকে গ্যাস ছাড়া হয়েছে, আর সেই গ্যাসেই সব ফসল পুড়ে গেছে।’
কৃষক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ইটভাটা মালিক জলিলপুর গ্রামের মনি সিটিগোল্ড ও হুদা শ্রীরামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ঘুষ দিয়ে বছরের পর বছর নিয়মবহির্ভূতভাবে ফসলি জমির পাশে ইটভাটা চালাচ্ছেন। ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মদদেই এ দুর্যোগ চলছে। আমরা দপ্তরের কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করছি।’
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, ‘ঋণ নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে কলা, কচু, পেয়ারা ও পেঁপে লাগিয়েছিলাম। সব শেষ হয়ে গেছে।’ কৃষক রজব আলী ও খায়রুল ইসলাম জানান, তারা ফসল হারিয়ে পথে বসেছেন। এর ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা বিপাকে পড়বেন।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন সুলতানা জানান, শনিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দেখি ড্রাগন, কচু, পেঁপে, মরিচ, কলাগাছ, পটলসহ সব ধরনের ফসলের পাতা পুড়ে গেছে। এতে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতির তালিকা তৈরি করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এ বিষয়ে ইটভাটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, তিনি বিক্ষুব্ধ কৃষকদের রোষানল এড়াতে পালিয়ে গেছেন।
ঝিনাইদহ অফিস