ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মাইলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। এখন তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকা থোকা লাল, কালো ও সবুজ আঙুর ঝুলছে। দৃষ্টিনন্দন এই বাগান দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত মানুষ। আবু বক্কর জানান, গত বছর দেড় বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ৩২০টি আঙুর গাছ রোপণ করেন। পরে গাছগুলো বড় হলে মাচায় তুলে দেন এবং লাইন ধরে ছড়িয়ে দেন। এরই মধ্যে গাছে ফুল-ফল আসা শুরু হয়।
চাষি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অনেকের ধারণা, দেশে উৎপাদিত আঙুর টক হয়। কিন্তু আমার বাগানে উৎপাদিত তিন জাতের আঙুরই মিষ্টি।’ তিনি আরও জানান, প্রতিটি গাছে এবার গড়ে ১০ থেকে ১৫ কেজি করে আঙুর ধরেছে। গাছের ভারে মাচা পর্যন্ত ঝুঁকে পড়ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যে বাগান দেখতে আসা মানুষদের প্রতিদিন ১৪-১৫ কেজি আঙুর খাওয়াচ্ছেন। এবারের মৌসুমে তার ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছেন তিনি।
আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘বাগানের সম্প্রসারণের পাশাপাশি েিদশি-বিদেশি উৎস থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছি। গাছে প্রাকৃতিকভাবে গোবর সার এবং মাঝে মাঝে পটাশ সার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করি না আমি।’
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘আমি আবু বক্করের আঙুর বাগান পরিদর্শন করেছি। বাজারের আঙুরের তুলনায় তার বাগানের আঙুর আরও বেশি মিষ্টি ও মানসম্মত।’ স্থানীয়ভাবে অনেকেই বলছেন, দেশে যদি এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বিদেশ থেকে আর আঙুর আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। এমনকি ঝিনাইদহ থেকে যেসকল সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মী তার বাগানে গিয়ে আঙুর খেয়েছেন, তারাও স্বীকার করেছেন, এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ এবং ফলগুলো অত্যন্ত সুমিষ্ট।
প্রতিবেদক মহেশপুর