হুন্ডি ও সোনা চোরাচালান নিয়ে বিরোধের জেরে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে মতিয়ার রহমান মতি (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও তার হাঁটুতে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ মতিয়ার রহমান মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার আজিজুর রহমানের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের কামারবাড়ি মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মতিয়ারকে মহেশপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর দুপুরে কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গুলিবিদ্ধ মতিয়ার রহমান জানান, গতকাল ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ তরিকুল ইসলাম আকালে, আকাশ, ইব্রাহীম ও ইসরাফিল হোসেন তাকে ঘিরে ধরে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মসজিদে নামাজরত মুসল্লিরা ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবাইদুল ইসলাম জানান, ভোর ৫টার দিকে মতিয়ারের ওপর হামলা হয়। তিনি হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন। ওবাইদুল আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি বাঘাডাঙ্গা গ্রামে মণ্টু ও তার ভাতিজা শামীমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই মামলায় হামলাকারীরা আসামি।
সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, ডাবল হত্যা মামলার প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম আকালের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই মতিয়ারের হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলার আগে একাধিকবার মোবাইলে হত্যার হুমকি দিয়েছিল আকালে। আতঙ্কে মতিয়ার বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মণ্টু ও শামীম হত্যা মামলার পর আকালে ভারতে পালিয়ে যান। পরে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গের হাসখালী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ভারতের হাসখালী থানায় ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল একটি মামলা হয় (নম্বর ৩৩৯/২৪)। দুই মাস আগে ডাবল হত্যা মামলায় জামিন পেয়ে আকালে রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। গোপনে মহেশপুরে ফিরে এসে আবারও অস্ত্র, মাদক, হুন্ডি ও সোনা চোরাচালান শুরু করেছেন। তার সঙ্গে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আজাদের ছেলে আকাশ, টেনার ছেলে ইব্রাহীম ও ঝড়ু মোল্লার ছেলে ইসরাফিল হোসেন রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, পুরোনো বিরোধের জেরে সীমান্তের বাঘাডাঙ্গা গ্রামে একজনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন