চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস, স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, জেলা প্রাসিম্পদ কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন আহমেদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিন্দ্র কুমার মণ্ডল, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব, সমাজসেবার উপ-পরিচালক সিদ্দিকী সোহেলী রশিদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা মৎস্য অফিসার দীপক কুমার পাল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক প্রমুখ। সভায় গত মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রহমান।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার ব্রান্ড কালো ছাগল। এই ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল সংরক্ষণের জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে এ জাতের ছাগল হারিয়ে যাবে।’ তিনি বাড়িতে ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালনের পরামর্শ দেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, ‘ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল সংরক্ষণের জন্য স্বল্প পরিসরে প্রকৃত খামারিদের কাছে নামমাত্র মূল্যে পাঠা ও ছাগী দেওয়া হয়। এছাড়া রমজান উপলক্ষে জেলার ৪ উপজেলায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মুরগী, ডিম ও গরুর মাংস বিক্রি কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।’
জেলা রেজিস্ট্রার লোকমান হোসেন জানান, ৪ উপজেলায় ফেব্রুয়ারি মাসে ২ হাজার ৫৫০টি দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ১৮৭ টাকা। চুয়াডাঙ্গায় বিবাহ বিচ্ছেদ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালে ৭ হাজার ৪০৯ জনকে তালাক দেয়া হয়েছে। যা শতকরা হিসেবে ৭১.৩৯ ভাগ। ২০২৪ সালে তালাকের সংখ্যা ৫ হাজার ৯ শ জন। শতকরা হিসেবে ৬৮ ভাগ।
সভায় জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘চুয়াডাঙ্গায় মোট ১৭ লাখ পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে ১২ লাখ ৬৩ হাজার বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।’ সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সদর হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় রোগী বেশি থাকায় ওষুধের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।’
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘আসন্ন গরমে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। দিনের বেলায় লাইট ব্যবহার বন্ধ ও এসি ব্যবহারে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা বা তার উপরে রাখতে হবে। তাহলে বিদ্যুৎ অনেক সাশ্রয় হবে।’
সভায় চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পানির সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘৩ মাস পাম্প বন্ধ আছে। এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।’ এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টির দ্রুত সমাধান করতে হবে।’ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। রাজস্ব খাত থেকে অতিদ্রুত কাজটি সম্পন্ন করা হবে।’
উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলার সকল সরকারি, আধা সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে জেলার স্বার্থে কাজ করব। প্রত্যেকটা কাজ যেন ফলপ্রসূ হয়, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন