নিজের জমি ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গার মৃত খোকা মোল্লার ছেলে শুকলাল মোল্লা। তিনি ভাইদের কাছে নিজের সম্মত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, সেই জমি ফিরে না পেয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। বিষয়টি নিয়ে গতকাল রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন শুকলাল মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে শুকলাল মোল্লা বলেন, আমি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শুখলাল মোল্লা। ১৯৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়, তখন অনেকটা মনের দুঃখে এবং অভাবের তাড়নায় আমি ভারতে চলে যায়। পরবর্তীতে আমি আমার বিভিন্ন শুভাকাক্সক্ষী এবং চাচাতো ভাই ইন্দ্রজিত বিশ্বাস বুদো ও নরেশ বিশ্বাসের অনুরোধে ৮ বছর পূর্বে বাংলাদেশে ফিরে আসি। যখন আমি ভারতে চলে যায়, তখন আমি আমার সম্পত্তি ভাইদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়ে যায়। ফিরে এসে জানতে পারি, আমার ভাইয়েরা আমার অবর্তমানে জাল দলিল তৈরি করে গোপনে নিজেদের তাদের নামে খারিজ ও খাজনা করেছে। এই বিষয়ে ভাইদের জিজ্ঞাসা করলে তখন তারা বলে, যেভাবেই হোক আমরা কাগজপত্র প্রস্তুত করে ফেলেছি। তুই এই ব্যাপারে কোনো ঝামেলা করিস না। আমরা তোর একটা ব্যবস্থা করবো। তখন তারা রবিন এবং টিংকু মল্লিকের সাক্ষাতে অন্য জায়গায় ৩ কাঠা ভিটা জমি, টিন সেডের একটা ঘর, এবং ৩ লাখ টাকা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। তখন গ্রামের গণ্যমান্য লোকসহ সাধারণ জনগণের কথায় বাবার ভিটায় ঘর করি। আমি তখন আমার ভাইদের বললাম, যেহেতু তোমরা তোমাদের কোনো কথায় রাখলে না, তাহলে আমি আমার বাবার ভিটায় ঘর করবো। তখন ভাইয়েরা বলল, তুই যদি ঘর করিস তাহলে আমরা জমি বিক্রি করে দেব। আমি পরবর্তীতে আমার বাবার ভিটায় ঘর করেছি এবং তাদের জাল দলিলের বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি।
তিনি আরও বলেন, মামলার পরে থেকে তারা বিভিন্ন খরিদ্দার নিয়ে এসে জমি বিক্রির চেষ্টা করে। মামলার কথা শুনে কেউ জমি কিনতে রাজি হয়নি। কিন্তু কার্পাসডাঙ্গা মাঝপাড়ার মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে আব্দুল হামিদ মামলা আছে জেনেও জমি কিনতে রাজি হয়। এই কথা জানতে পেরে আমি নিজেসহ আব্দুল হামিদের ভাই আব্দুল কাদের বিশ্বাস এবং গ্রামের আরও অনেকে আব্দুল হামিদকে জমি কিনতে নিষেধ করেন। কিন্তু আব্দুল হামিদ বলেন, আমি ২ টাকার জিনিস ১ টাকায় পেলে কেন কিনবো না। আমার সামনে কেউ আসলে আমার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তার হাত পা ভেঙে দেবো। তিনি বলেন, পরবর্তীতে আব্দুল হামিদ হঠাৎ একদিন জমি মাপজোক করতে আসে। আমি বাধা দিলে তিনি বলেন, তোর মতো মুক্তিযোদ্ধা পা দিয়ে চটকাবো। এরই একপর্যায়ে আমি স্থানীয় এমপিকে জানালে তিনি থানায় অভিযোগ করতে বলেন। এই বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ করি। অভিযোগ দেওয়ার সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ রাতে ১৫/১৬ জন ক্যাডার বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক আমার বেড়া ভেঙে তারের বেড়া নির্মাণ করে। পরবর্তীতে সেই বেড়া অপসারণ করি। কিন্তু আব্দুল হামিদ অব্যাহতভাবে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। বিগত ২০১৪ সালের ৬ মার্চ আব্দুল হামিদ তার ছেলেদের, ভাইপোকেসহ বিভিন্ন ক্যাডার এবং কার্পাসডাঙ্গা কবরস্তানপাড়ার মোজ্জামেল হকের ছেলে আবুল হাসানের নেতৃত্বে আর একটি ভাড়াটে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আমার জমি দখল করতে আসে। বিভিন্ন লোকজনের সহযোগিতায় জমি দখল করতে পারেনি। কিন্তু বিভিন্ন হুমকি অব্যাহত আছে। আমার আত্মীয় স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশী কেউ আমার বাড়ি আসলে বা আমাকে যারা সহযোগিতা করছে তাদের প্রত্যেককে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ, আমাকেসহ আমার লোকজনকে প্রশাসন নিরাপত্তা দেয়, আমাকে যেন জোরপূর্বক জমি থেকে উচ্ছেদ করতে না পারে। তিনি আরও বলেন, দুঃখ হয় দেশের জন্য যুদ্ধ করলাম অথচ বিচারের জন্য আমাকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। এখন মনে হয় পাকিস্থানি বাহিনীর হাতে মরে যাওয়াই ভালো ছিল।
সমীকরণ প্রতিবেদন