৯১ বছরের বৃদ্ধা খাতুন্নেছা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনি। পায়ে হেঁটে চলা ফেরা করতে পারেন না। তাই ভ্যানযোগে এসে ছেলের সহযোগিতায় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন তিনি। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ডিঙ্গেদহ সোহরাওয়ার্দী স্মরণী বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এই বৃদ্ধা। তিনি ডিঙ্গেদহ হাটখোলাপাড়ার আজিজুল হকের স্ত্রী।
বৃদ্ধা খাতুন্নেছা বলেন, ঠিক মতো চলাচল করতে পারি না। শ্বাসকষ্টও হয়। সেই কবে চেয়ারম্যানের ভোট দিয়েছিলাম। রাজার ভোট হলেও চেয়ারম্যানের ভোট আর হয়নি। পরের ভোট পর্যন্ত বেঁচে থাকবো কিনা জানি না, তাই জীবনের শেষ মুহূর্তের ভোট দিতে চেয়েছিলাম। ছেলেই আমাকে ভোট কেন্দ্র নিয়ে এসেছে। পছন্দের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের ভোট দিয়েছি। যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছি, কারণ তাদের ছোট বয়স থেকেই দেখছি। আমি জানি তারাই পাশ করবে। যদি পাশ না করে তাতেও দুঃখ নেই।
বৃদ্ধা খানুন্নেছার ছেলে আইয়ুব আলী বলেন, মা সেকালের মানুষ। যা একবার বলে তা থেকে আর নড়ে না। অসুস্থ হলেও ভোট দিতে চেয়েছিলেন। ঠিকমতো হাঁটতে না পারায় মাকে ভ্যানে করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। এবার ভোট হচ্ছে খুব সুন্দর। কোনো গোলযোগ নেই, কোনো বাধা নেই। মা ভোট দিতে পেরে অনেক খুশি হয়েছে। মার ভোট দেওয়া হয়ে গেলে আমি নিজের ভোটও দিয়েছি।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১১ সালে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৩ বছর পেরিয়েছে এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের। এরমধ্যে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ দুটি ভাগে বিভক্ত করে নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন সৃষ্টি হয়েছে। নবগঠিত এই ইউপিতে এবারই প্রথম ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো।
সমীকরণ প্রতিবেদন