চুয়াডাঙ্গায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে নারী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই নারী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় 'স্মার্ট বাংলাদেশ ও ভিশন-২০৪১, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অর্জিত সাফল্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সদ্ব্যবহার, মাদক, সন্ত্রাস, গুজব, অপপ্রচার, জঙ্গিবাদ ও নাশকতা, অপরাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে' নানা আলোচনা হয়।
সভায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা-তুজ-জোহরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) শারমিন আক্তার।
মতবিনিময় সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান, আলুকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, উদ্ভাবনী, স্থানভিত্তিক বুদ্ধিদীপ্ত সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট বাংলাদেশের ৪টি স্তম্ভ হলো- স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনোমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট এবং স্মার্ট সোসাইটি। স্মার্ট সিটিজেন না হলে বাকিগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। স্মার্ট হলো নতুন নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক টেকনোলোজির সাথে মানিয়ে নেওয়া। স্কিল হতে হবে, দক্ষ হতে হবে, মাল্টি স্কিল নলেজ অর্জন করতে হবে। অ্যাপসের মাধ্যমে সকল কাজে পারদর্শী হতে হবে। অনলাইনে মার্কেটিং, ইকমার্স সম্পর্কে ধারণা জ্ঞান থাকতে হবে। কেমন হবে স্মার্ট বাংলাদেশ-সকলে সমান অধিকার সুযোগ সুবিধা পাবে। ন্যায়পরায়ণ সাম্য ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, কেউ পিছিয়ে থাকবে না গ্রাম ও শহরকে আলাদা করা যাবে না। সেবাগ্রহীতার অর্থ ও যাতায়াত সাশ্রয়ী হবে। ই-কমার্স, অনলাইন, সকল চিকিৎসা নির্ভুল হবে। যেকোনো স্থান থেকে শিক্ষা লাভ করা যাবে। আমাদের কৃষকেরা আরও বেশি সফল হবে। তরুণদের সম্ভাবনা ছড়িয়ে যাবে সারা বিশ্বে। নিজেই হবো সকল সমস্যার সমাধান।
বক্তারা ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়নসহ নারীদের করণীয় এবং দেশের উন্নয়নে নারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। এছাড়া যৌতুক প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের (যেমন-বুটিক, দর্জি, সেলাই ইত্যাদি) মাধ্যমে নারীদের আত্মমর্যাদার উন্নয়নে করণীয় বিষয়, শিশুর পুষ্টি সচেতনতা, শিশুর পানিতে ডোবা প্রতিরোধ, শিশু শিক্ষাসহ পারিবারিক পরিবেশে শিশুর প্রতি সার্বিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন