মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামে বাগানের গাছ কেটে আনারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে জুগিন্দা হাইস্কুল পাড়ায় দেখা যায়, মৃত নাসির উদ্দীন ও তার স্ত্রী রশিদা খাতুনের ১২ শতক জমির লেবু বাগানের অধিকাংশ গাছসহ বাগানের সীমানার মধ্যে লাগানো জেহালা ও আমের গাছ কাটা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে সীমানায় দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি।
মিজানুর রহমান জানান, জুগিন্দা মৌজার ৩৩৯ খতিয়ানের ১০১ নম্বর দাগের ১০ শতক জমির মূল মালিক আমার বাবা নাসির উদ্দীন, চাচা আমিরুল ইসলাম ও দাউদ হোসেন। এর মধ্যে চাচা আমিরুল ইসলামের আড়াই শতক জমি মা রশিদা খাতুনের নামে ক্রয় করা ও বাবার আড়াই শতক এবং ৯৬ খতিয়ানের ১০৩ নম্বর দাগে ১৪ শতকের মধ্যে ৭ শতক ক্রয় করা ১২ শতক জমিতে লেবুসহ বিভিন্ন গাছের বাগান করা হয়েছে। ঢাকা-গাজীপুর থেকে ফিরে আমার চাচা আনারুল ইসলাম ওই জমি নিজের দাবি করে তা দখলের পাঁয়তারা করছেন। এ নিয়ে বিভিন্নভাবে মামলা করে আমাদের হয়রানিও করা হচ্ছে। স্থানীয় ও থানায় শালিসেও সে কোনো কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ইতঃপূর্বেও গাছ কর্তন করলে স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়। অবশেষে শুক্রবার বিকেলে লোকমুখে শুনে লেবু বাগানে গিয়ে দেখি আমার চাচা আনারুল ইসলাম দা দিয়ে আমার জমির লেবু গাছ, সীমানার মধ্যে জেহালা গাছ, আম গাছ কর্তন করছে এমনকি সীমানার কাঁটাতারের বেড়া ও খুঁটি উপড়ে ফেলেছে। আমি গাছ কর্তনে বাঁধা প্রদান করলে দা দিয়ে আমাকে কেটে জখম করবে এমনকি খুন করে ফেলবে বলে ধাওয়া শুরু করে। (এমন ভিডিও সাংবাদিকের কাছ সংরক্ষিত রয়েছে) এমতাবস্থায় আমি প্রাণ ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় আমার চাচিও বাঁশের লাঠি নিয়ে ছুটে আসে। এ ঘটনা স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আনারুল ইসলাম বাড়ি থেকে বাইরে চলে যার। আনারুল ইসলামের স্ত্রী গাছ কাটার ঘটনা মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি ওই জমি তার স্বামীর বলে দাবি করলেও কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
আনারুল ইসলামের মাথায় সমস্যা রয়েছে। পাড়া প্রতিবেশী কেউ কিছু বললে তাদেরও মামলায় ফাঁসিয়ে দেন এ ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, নিজের একই জমি কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে এখনও রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। এ নিয়ে গ্রামের কয়েকজনের সাথে ঝামেলা রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদেও অভিযোগ রয়েছে কিন্তু আনারুল ইসলাম হাজির হননি।
ধানখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, গাছ কর্তনের ঘটনা শুনেছেন বলে জানান। তবে আনারুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে ইতিপূর্বে অন্য বিষয়ে উপস্থিত না হওয়ায় গাছ কর্তনের বিষয়ে থানায় অভিযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন