শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসায় শিক্ষক আলাউদ্দীনকে বিদায়

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০২-২০২৪ ইং
শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসায় শিক্ষক আলাউদ্দীনকে বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের গোপালপুরের ১১ নম্বর ডি জি এম শান্তিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনকে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসার মধ্যদিয়ে বিদায় জানানো হয়েছে। অবসর উপলক্ষ্যে সহকর্মী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয় চত্বরে এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছরের কর্মজীবনের শেষ সময়েও তিনি ভালো কাজের নিদর্শন হিসেবে গ্রামটির দুটি বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য এদিন দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন (মিড ডে মিল)।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. মজিবুর হকের সভাপতিত্বে এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু। তিনি বলেন, আসলে বিদায় বরাবরই কষ্টের। প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন এই প্রতিষ্ঠানকে সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। চাকরিকালীন সময়ে বিদ্যালয়টিতে তিনি শহীদ মিনার ও ভবনসহ দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন। বিদায়ের আগে আমার কাছে দাবি করেছেন, বিদ্যালয় সংলগ্ন খালে পাকা নালা ও সীমানা প্রাচীরের। আমি কথা দিচ্ছি তা করে দেব। উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে এই শিক্ষককে শিক্ষানুরাগী সদস্য করা হবে। তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার ১১৬ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।
নতিপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার মো. আবু হাসান বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। মো. আলাউদ্দীনকে শিক্ষাগুরু বিশেষণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে মো. আলাউদ্দীন স্যারকে আমরা পেয়েছি। তিনি আজকেও নিজ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিলের আয়োজন করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরও সৌভাগ্য যে, সুস্থ দেহে আমাদের মাঝে থেকে ৩৫ বছর তিনি মন প্রাণ উজাড় করে প্রাথমিক শিক্ষায় সেবা দিয়েছেন। সেজন্য আমার নিজের ও ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ, মোবারকবাদ জানাই। চাকরি থেকে অবসর নিলেও তিনি প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে থাকবেন, আমাদের সঙ্গে থাকবেন। প্রাথমিক শিক্ষার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাঁকে ডাকব এবং তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন। শিক্ষার সাথে তাঁর চিন্তা-চেতনা আমরা সেগুলো শেয়ার করব। তার কাছ থেকে মতামত নেব এবং এ এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার মোড় ঘোরাবো ইনশাল্লাহ।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মো. আলাউদ্দীনের সাথে স্ত্রী মোছা. আরিফা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী এই প্রধান শিক্ষক আমন্ত্রিত অতিথি, সহকর্মী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার বিদায় মুহূর্তে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার মো. আবু হাসান স্যারসহ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পেয়ে গর্ববোধ করছি। এই প্রতিষ্ঠানে সবসময়ই আমার অন্তর, আমার মন পড়ে থাকে। এখন অনেকেই শিক্ষিত হলেও ভালো মনের মানুষ তেমন গড়ে উঠছে না। ভালো মানুষ তৈরি করার জন্য যা যা করার তা গ্রামের শিক্ষিত মানুষকে সাথে নিয়ে চেষ্টা করব।
গতকালের এই বিদায় সংবর্ধনায় দামুড়হুদা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর রোকনুজ্জামান খান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিম রেজা, নাসির উদ্দিন, মোহা. নূর ইসলাম, ছবির উদ্দীন ও শাহরিয়ার কবির এবং প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি শাহ আলম সনি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

কার্পাসডাঙ্গায় কাচামাল ব্যবসায়ীর ছু*রিকাঘা*তে ফল ব্যবসায়ী মধু নি*হ*ত