শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরের ধোপাখালী এখন পুষ্টিগ্রাম

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০২-২০২৪ ইং
জীবননগরের ধোপাখালী এখন পুষ্টিগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
একসময় অধিকাংশ কৃষকের বাড়ির আঙিনার পতিত জমি ছিল নোংরা ও আবর্জনাই ভরা। কিন্তু আজ এসব জমির চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে এখন সবুজের সমারোহ। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় শোভা পাচ্ছে পুষ্টি বাগান। ছোট্ট জায়গায় হরেক রকমের সবজির সমাহার বাড়ির পাশের পরিবেশকে করেছে সমৃদ্ধ। উৎপাদিত শাক-সবজি নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে আয় করছে পুষ্টি গ্রামের অন্তত ৭৮টি পরিবার। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ সবজি চাষ করে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী গ্রাম এখন পরিচিতি পেয়েছে পুষ্টিগ্রাম নামে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির পাশে পতিত জমিতে বাঁশ ও নেটের বেড়া দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে পারিবারিক পুষ্টিবাগান। এসব বাগানে লাগানো হয়েছে লালশাক, পুঁইশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, কলমি শাক, লাউ, কুমড়ো, বেগুন, করলা, ফুলকফি, বাঁধাকপি, শিম, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজি।

এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ফলজ, ভেষজ ও মশলা জাতীয় গাছ। এসব পুষ্টি বাগানে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার। অবসর সময়ে সে সব পরিচর্যা করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। এসব বাগানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূল পরিবারগুলোর নিজেদের পুষ্টিচাহিদা মেটাচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক পুষ্টিবাগান থেকে কিছু শাকসবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষির উন্নয়নে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় ধোপাখালী গ্রামের ৭৮টি পরিবারের অব্যবহৃত জমিতে এ নিরাপদ পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজির চাষ হচ্ছে। এ জন্য উপকারভোগী প্রত্যেকের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে বিভিন্ন বীজ, জৈব সার, নেটসহ বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী।

``

গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক লাটু জানান, কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি তাঁর বাড়ির আঙিনায় পতিত জমিতে শাক-সবজির চাষ করেছেন। এখান থেকে উৎপাদিত সবজি তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছে। তিনি জানান, ‘আমার এত ভালো শাক-সবজি হয়েছে যে, আমি নিজে খাচ্ছি আবার পাড়া-প্রতিবেশীদেরও দিচ্ছি। এটাই আমাকে বেশি তৃপ্তি দেয়।’
গৃহবধূ মমতাজ বেগম জানান, নিজেদের খাওয়ার জন্য আগে বাজার থেকে শাক-সবজি কিনতে হত। এখন আর কোনো শাক-সবজি কিনতে হচ্ছে না তাদের। বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগানে উৎপাদিত শাক-সবজি সে চাহিদা মেটাচ্ছে। এতে করে পারিবারিক ব্যয়ও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আ.ন.ম মোরশেদ বিল্লাহ জানান, গ্রামের চাষীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বাড়ির আঙিনায় পুষ্টি বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এসব বাগানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমুল পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণ করছে। সেই সঙ্গে কিছু শাকসবজি বিক্রি করতে পেরে তাদের সংসারের আয় বেড়েছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের এ পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপনে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ, চারা ও সার বিনামূল্যে সরবরাহ করেছি। তারা পারিবারিকভাবেই বিষ ও ভেজালমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছে। এভাবেই এগিয়ে যাবে দেশের কৃষি।



কমেন্ট বক্স
notebook

কার্পাসডাঙ্গায় কাচামাল ব্যবসায়ীর ছু*রিকাঘা*তে ফল ব্যবসায়ী মধু নি*হ*ত