বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পুনাকের আয়োজনে ও জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বসন্ত বরণ

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০২-২০২৩ ইং
পুনাকের আয়োজনে ও জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বসন্ত বরণ
সমীকরণ প্রতিবেদন: বসন্ত এসে গেছে। শীতের রুক্ষ ভাব কাটিয়ে প্রকৃতিতে নতুনের আহ্বান। গাছে গাছে নতুন শাখা, নতুন পাতা, নতুন ফুল হাতছানি দিচ্ছে নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাসের। বিভক্তির বেড়াজাল কাটিয়ে বসন্ত বাঙালির জীবনে আসে সম্মিলনের আবাহন নিয়ে। ফাগুনের দ্বিতীয় দিনে পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গার বাসভবন সেজেছিল উৎসবের রঙে। সেই রঙ ছুঁয়ে গেছে পুনাকের আয়োজনে ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় উদযাপিত বসন্ত উৎসবে আগত সব বয়সী অতিথিদের মাঝে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার ও পুলিশ সুপার পত্নি এবং পুনাক সভানেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন আগত অতিথিদের একে একে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। আগত অতিথিরা জেলা পুলিশের পাঁচটি থানা, ডিবি ও এসবি’র ব্যতিক্রমী স্টলগুলোয় সাজানো দেশীয় হরেক রকম ফল, পিঠা-পুলি, চা-কফি ও হাওয়ায় মিঠাইয়ের স্বাদ গ্রহন করে আপ্লুত হন। সন্ধ্যার পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বসন্তের গান গেয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন নুসরাত জাহান করবী। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ ও নুসরাত জাহান করবীর প্রানবন্ত উপস্থাপনায় সংগীতানুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলো চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুনের কন্ঠে ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’ ও ‘আজকে না হয় ভালোবাসো, আর কোনদিন নয়’। অনুষ্ঠানে শুধু গানই নয়, ছোট ছোট সোনামনিদের আবৃতি ও নৃত্য পরিবেশন অতিথিদের মুগ্ধ করে। পুনাকের বসন্ত উৎসবে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার বলেন, ‘এখানে এসে আমার ব্যতিক্রম অনুভূতি হচ্ছে। জেলা জজ হওয়ায় এমন সুন্দর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুব একটা হয়ে ওঠে না। এ অনুষ্ঠানে এসে বিভিন্ন দপ্তরের মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ও সকলের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে আমি ও আমার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানে জেলার প্রতিটা থানা এখানে স্টল দিয়েছে। সেসব স্টলে বিভন্ন ধরনের পিঠা পুলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে এসে আমার অনেক ভালো লাগছে। বসন্তবরণ বাঙ্গালী জাতির মেলবন্ধন। আবহমান কাল ধরে আমরা দুই বাংলায় এ বসন্ত বরণ করে যাচ্ছি। এ বসন্তে আমরা শুধু শিমুল বা পলাশ ফুল কিংবা গাছে গাছে নতুন পাতা তা নয়, এ বসন্ত প্রতি বছর আমাদের নতুন প্রেরণা যোগায়। বসন্ত থেকে পুরাতন স্মৃতি ভুলে নতুন পথ চলার প্রেরণা পাই।’ `` চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘বসন্ত যে ভালোবাসার বার্তা বয়ে আনছে তা নিজের গণ্ডি পেড়িয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতির বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আমাদের প্রাণের উৎসবগুলো যাতে মুছে না যায় সেজন্য বাঙ্গালী কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে। পুনাক আয়োজিত বসন্ত উৎসবের আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ায় তিনি আগত অতিথিদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মনজু বলেন, ‘বসন্ত উৎসব আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা। আমরা এই চেতনাকে লালন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যেতে চাই। এমন অনুষ্ঠান আয়োজন আমাকে শুধু মুগ্ধ করেনি, ঋণিও করেছে। এসময় তিনি এমন বর্ণিল ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য পুনাক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।’ চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের সহধর্মিণী ও পুনাক সভানেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘তীব্র শীত শেষে আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে এই ফাল্গুন। ফাল্গুনের সাথে সাথে সেজেছে প্রকৃতিও। আর প্রকৃতির সাজে সেজেছে মানবসমাজ। আমরা এই আনন্দ নিয়ে বাঁচতে চাই, এর সাথে সাথে আমাদের ভাবী ও শ্রদ্ধেয় ভাই এবং সকল বাচ্চাদেরকে নিয়ে আমরা এক সাথে আনন্দ উদ্যাপন করতে চাই। আমরা সকলের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। তিনি সকল অতিথিকে ফাল্গুনের বর্ণিল শুভেচ্ছা জানান।’ এছাড়াও অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হামিদ রেজা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরাফাত রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) কবীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ প্রশাসন) আবু তারেক, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম ভূঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাড. মানিক আকবার, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সভাপতি ও সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, ডিবিসি নিউজ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিম, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও তাদের সহধর্মিনীরা। আয়োজনের শুরু থেকে পুলিশ সুপারের আন্তরিক আতিথেয়তায় বিভিন্ন ধরনের পিঠা, চা-কফিসহ নানা ধরণের বাঙালিয়ানা খাবারের আয়োজন বসন্ত বরণ উৎসবে এনে দেয় এক অন্য মাত্রা। বসন্ত বরণ হলুদের রঙে আগত অতিথিরা আয়োজনস্থল রাঙিয়ে তোলেন। সেই সাথে রঙিন আলোকছটায় অনুষ্ঠানস্থলে অন্যরকম আবহের সৃষ্টি হয়। উৎসবের মাঝে পুলিশ সুপার ও পুলিশ সুপার পত্নি পুনাক সভানেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন অতিথিদের বাঙ্গালী খাবার হাঁসের মাংশ, খিচুড়ি, কয়েক রকমের মাছের ভর্তা, বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি দিয়ে আপ্যায়ন করেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ