দর্শনার জননন্দিত মেয়র মতিয়ার রহমান আর নেই
- আপলোড তারিখঃ
২৮-১২-২০২২
ইং
বর্ষিয়ান এই রাজনৈতিকের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলে শোক, মরদেহ দেশে আনা প্রক্রিয়াধীন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান ইন্তেকাল করেছেনে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ভারতের দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মতিয়ার রহমান দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি দর্শনা পৌরসভায় বিভিন্ন মেয়াদে চারবার মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মতিয়ার রহমানের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দর্শনা পৌর পরিষদসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মতিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তাঁর লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে। তবে প্রতিস্থাপনের বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও প্রথমে লিভার মেলানো যায়নি। পরে স্ত্রী রোজী রহমানের সঙ্গে তার লিভার শতভাগ মিলে যায়। তিনি তাঁর লিভারের ৩০ শতাংশ স্বামীকে দেন। গত ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে পরদিন শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতের দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে টানা ১২ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে স্ত্রীর লিভারের ৩০ শতাংশ মতিয়ার রহমানের শরীরে প্রতিস্থাপন সফল হয়। এরপর থেকে টানা একমাস তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
দর্শনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রবিউল হক সুমন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। নিজের জীবন বিপণ্ন করে স্বামীকে লিভার দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও শেষ পর্যন্ত মেয়রকে বাঁচানো গেল না।
মতিয়ার রহমান ১৯৯৯ সালে সর্বপ্রথম দর্শনা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে ২০০৫, ২০১১ ও সবশেষ ২০২১ সালে একই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। দর্শনা থানা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। এছাড়া দর্শনাকে উপজেলা করার আন্দোলনও তিনি শুরু করেছিলেন। এর মধ্যেই অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসা নিতে যান। বর্ষিয়ান রাজনৈতিক মতিয়ার রহমানের পিতা ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন বর্ষিয়ান নেতা ও দর্শনা পৌর চেয়ারম্যান মৃত শামসুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর।
এদিকে, দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দর ছেলুন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মনজু, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, দর্শনা প্রেসক্লাবের (উপদেষ্টা) পরিষদের সকল সদস্য, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলম, দর্শনা পৌ বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, বিএনপি নেতা হাজী খন্দকার শওকত আলী, যুবদল নেতা এনামুল হক শাহ মুকুল, ইকবাল হোসেন, দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারের সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ পেশাজীবী সংগঠন বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
অপরদিকে, মতিয়ার রহমানের অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড সৈয়দ মজনুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড জাহাঙ্গীর আলম এক শোকবার্তায় তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে গভীর শোক প্রকাশ এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
কমেন্ট বক্স