জীবননগরে গরুর গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতা
- আপলোড তারিখঃ
২৮-১২-২০২২
ইং
মিঠুন মাহমুদ:
গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গরুর গাড়ির ব্যবহার। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। সেই ঐতিহ্যকে বুকে লালন করতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানাতে জীবননগর পৌরসভার সুবলপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নারী, শিশু ও পুরুষ দর্শক উপস্থিত থেকে উপভোগ করেন খেলাটি। এতে করে গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। এ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সুবলপুর গ্রামে আনন্দ মেলায় রূপ নেয়। আশপাশের স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে। স্টলগুলো খেলায় বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। দল বেঁধে ছেলে-মেয়েরা ঘুরতে থাকে মাঠের এপার থেকে ওপারে। আনন্দোৎসবে মেতে ওঠে গ্রামবাসী।
জানা গেছে, গ্রামবাংলার গরুর গাড়ির সংখ্যা কমছে। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে প্রতিবছর আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় আশপাশের জেলা থেকে ৫০টি গরুর গাড়ি অংশ নেয়। খেলা শুরুর আগ থেকে হাজার হাজার দর্শক মাঠে জড়ো হয়। এলাকার রাস্তাগুলোতে নারী-পুরুষ ও শিশুদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে এলাকায় মেয়ে-জামাই ও দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনেরা এক-দুদিন আগেই চলে আসায় এলাকায় বাড়তি উৎসব বিরাজ করছে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার ঝনঝনিয়া গ্রামের হযরত আলী বিশ্বাসের ছেলে শরিফুল ইসলাম গাড়োয়াল, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন যশোর বাঘারপাড়ার মশিয়ার মোল্লার ছেলে ওয়ালিদ গাড়োয়াল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যশোরের তামিম বিল্লাহ। খেলাটি উদ্বোধন করেন জীবননগর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আপেল মাহমুদ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদিন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বিউটি খাতুন, ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কয়েক হাজার দর্শনার্থীরা।
গরুর গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসা জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাশপুর গ্রামের আক্কাচ আলী নামের এক দর্শনাথী বলেন, ‘আমি জীবনের প্রথম এই গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা দেখছি। দেখে আমি খুবই খুশি। এ ধরনের আয়োজন প্রতিনিয়ত করার জন্য আয়োজকদের কাছে দাবি করছি।’ একই কথা বলেন মহেশপুর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামের এক দর্শক। তিনি বলেন, ‘গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা হবে শুনে সকালেই এই গ্রামে এসেছি। এখানে শুধু ঝিনাইদহ নই, আশপাশের জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছে। এ যেন কৃষক ভাইদের এক মিলন মেলা। গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা দেখে অনেক বিনোদন পেয়েছি। এটা যে দেখেনি, সে কখনো এর আনন্দটা পাবে না।’
জীবননগর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আপিল উদ্দিন বলেন, ‘সমাজে অন্যায়, অপরাধ থেকে দূর করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানান দিতে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা উচিত। আমরা প্রতিবছর এই ধরনের আয়োজন করব এবং আগামীতে যাতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখব।’
জীবননগর পৌর মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতা, এটা একেবারে বিলিন হওয়ার পথে। হারিয়ে যাওয়া এ সমস্ত প্রতিযোগিতাগুলো ধরে রাখতে এবং বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি প্রতিযোগিতা যাতে প্রতিবছর করা যায়, সে বিষয়ে আগামীতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমেন্ট বক্স