নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে জখম!
- আপলোড তারিখঃ
২৫-১২-২০২২
ইং
জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্বামী পরিত্যক্তাকে ভুট্রা খেতে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী নারীর ভাই রাকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী নারী জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে খোকন কাজীর মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী নারী ছাগলের জন্য শ্রীরামপুর গ্রামের দক্ষিণ মাঠের জাহাঙ্গীরের ভুট্রা খেতের আঁইলে ঘাস কাটছিলো। এসময় একই গ্রামের মৃত আদম আলীর ছেলে ইমান আলী (৪২) ও মৃত ফজু মণ্ডলের ছেলে মোমিনুল ইসলাম (৫০) তার মুখ চেপে ধরে ভুট্রা খেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। নিজের জীবন বাচাতে ওই নারী চিৎকার করলে ইমান আলী ও মোমিনুল তাদের নিকট থাকা হাসুয়া দিয়ে তাকে কুপিয়ে রক্তাত্ব জখম করে। চিৎকার শুনে স্থানীয় কৃষকরা ছুটে এলে ইমান আলী ও মোমিনুল ঘটনা স্থান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় কৃষক নিপন বলেন, ‘ওই নারীকে যখন ইমান আলী ও মোমিনুল ভুট্রা খেতে নিয়ে ধস্তা ধস্তি করছিলো আমি তখন খেজুর গাছ কাটছিলাম। নারীর চিকৎকার শুনে আমি গাছে ওপর থেবেই হাকার দিলে বেশ কয়েকজন কৃষক সেখানে ছুটে যায়। তখন ইমান আলী ও মোমিনুল সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আমরা ওই নারীকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, ইমান আলী শ্রীরামপুর গ্রামে বিয়ে পাগল নামে পরিচিত। তার একাধিক বউ থাকা সত্বেও গ্রামে প্রায় তার বিরুদ্ধে সালিশ হয়ে থাকে এবং অপর জন মোমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও গ্রামে একটি ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। সেসময় অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। হাসাদহ ইউপি সদস্য মো. আব্দুল গনি শুক্রবারের ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ও অভিযুক্ত দুজনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে হাসাদহ ইউপি সদস্য মো. আব্দুল গনি বলেন, ‘আল্লাদী নামের এক নারীকে ধর্ষণ করতে যেয়ে ব্যর্থ হয়ে ইমান আলী ও মোমিনুল তাকে কুপিয়ে জখম করেছে বলে শুনেছি। সংবাদ শোনার পর আমি ঘটনাস্থানে গিয়েছিলাম, তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক না। আমি উভয় পক্ষকে বলেছি মামলা না করে সমাজে বসে একটা মিমাংশ করলে ভালো হয়, এছাড়া আমি আর কোন কথা বলিনি।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণে ব্যার্থ হয়ে কুপিয়ে জখম করার বিষয়ে অভিযোগ হয়েছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমেন্ট বক্স