ঝিনাইদহে শতাধিক পাখি হত্যা!
- আপলোড তারিখঃ
২৩-১২-২০২২
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
পাখি হত্যায় অমানবিক দৃশ্য যে কোনো বর্বরতাকেও হারা মানায়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাকড়ি গ্রামে গম ক্ষেত তছরুপ করায় বিষ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি হত্যার পর মৃতদেহ লাঠির আগায় বেঁধে ক্ষেতের মধ্যেই ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এমনি এক বিভৎস্য দৃশ্য সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে অভিযোগ উঠেছে বাকড়ী গ্রামের গমচাষি মননু মিয়ার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গম ক্ষেতে পাখির আগমন ঠেকাতে কীটনাশক প্রয়োগ করেন গমচাষি মননু মিয়া। বিষ দিয়ে শতাধিক পাখি হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হননি তিনি, আর যাতে ক্ষেতে পাখি না বসে সে জন্য পাখির মৃতদেহ লাঠির আগায় বেঁধে ক্ষেতের মধ্যেই ঝুলিয়ে রাখেন। অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি পাখি গম ক্ষেতের আসে পাশে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় গ্রামবাসী আব্দুর রহমান জানান, ‘চাষি মননু ১৮ কাঠা জমিতে গম বীজ বপন করেন। ক্ষেতে শালিক ও ঘুঘুসহ অন্য পাখি বীজ খেয়ে ফেলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে জমিতে কীটনাশক ছিটিয়ে দেন। ফলে বিষ মেশানো গম খেয়ে একের পর এক পাখি মারা যেতে শুরু করে। গ্রামবাসির ভাষ্যমতে, মননু মিয়া মৃত পাখিগুলোর পা দড়ি দিয়ে বেঁধে ক্ষেতের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখেন। গত এক সপ্তাহ ধরে কৃষক মননু এই অমানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। গম ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, মৃত পাখিগুলো পচে গেছে। আবার অনেক পাখি শিয়াল-কুকুরে নিয়ে গেছে। নির্দয়ভাবে পাখি হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ উপজেলা বন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালের বন্য প্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধণের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল ও এক লাখ টাকা জরিমনা। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ‘ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক দিয়ে পাখি হত্যা অবশ্যই অপরাধ। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে মামলা হতে পারে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবে।’
কমেন্ট বক্স