দামুড়হুদায় ৩৫৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ
- আপলোড তারিখঃ
১৪-১২-২০২২
ইং
আওয়াল হোসেনের প্রতিবেদন: যখন ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন দামুড়হুদা উপজেলার কৃষকরা তেলের চাহিদা মেটাতে সরিষার চাষে আগ্রহ বাড়িয়েছে। ফলে উপজেলার মাঠে মাঠে সবুজ ফসলের মাঝে হলুদের সমারোহ শোভা পাচ্ছে। সবুজ শ্যামল বাংলার মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে অন্য রকম সাজে সেজেছে। আর এই হলুদ সরিষার ফুলে ফুলে মৌমাছিদের গুন গুন গানের শব্দে মোহিত হয়েছে এ এলাকার প্রকৃতি। সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ ফুলের পাঁপড়ির বুকে যেন কাঁচা হলুদের আলপনা আঁকা মাঠ।
এলাকার কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে সেই আগের মতো ঘরে ঘরে খাটি সরিষার ঘানির তেল, খেজুর গুড়, পুকুরের মাছ ও খেতের সবজি চাষ করে নিজেরাই নির্ভরশীল হওয়ার। গত বছর রবি মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষা চাষ হয়েছিল ২৫০ হেক্টর জমিতে। সরিষার তেল উৎপাদন হয়েছিল ১২৫ মেট্রিক টন। তবে চলতি রবি মৌসুমে সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৩৫৭ হেক্টর জমিতে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ১০৭ হেক্টর জমিতে বেশি। চলতি তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২৮ মেট্রিক টন।
দামুড়হুদার কৃষক আব্দুস ছামাদ বলেন, ‘গত বছর ১০ কাঠা জমিতে সরিষার আবাদ করেছিলাম। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার দেড় বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। সরিষার ফুলে ফুলে মাঠ ভরে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে এবং দামও ভালো পাওয়া যাবে।’ উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে হাইব্রিড টরে সরিষার আবাদ করেছি। গাছ খুব ভালো হয়েছে, খেত গলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে ফল ও গেথে গেছে। আবহাওয়া এখনও অনুকূলে আছে, এমন থাকলে ফলন খুব ভালো হবে বলে আশা করছি।’
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান বিদেশ থেকে ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়। বাজারে তেলের চাহিদা বাড়ায় আমদানি নির্ভরতা কোমাতে কৃষকদের সরিষা চাষে বেশি আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে চাষিদের আগ্রহী করা হচ্ছে। যে কারণে গত মৌসুমের তুলনায় ১০৭ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। নিয়মিত খেত পরিদর্শন করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার কোনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উপজেলা থেকে ৪২৮ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন সম্ভব হবে। যা গত বছরের তুলনায় ৩০৩ মেট্রিকটন বেশি।’
কমেন্ট বক্স