মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বেকারত্বের ভয়াল থাবায় কর্মের সন্ধানে প্রবাস ছুটছেন ঝিনাইদহের মানুষ

  • আপলোড তারিখঃ ১৩-১২-২০২২ ইং
বেকারত্বের ভয়াল থাবায় কর্মের সন্ধানে প্রবাস ছুটছেন ঝিনাইদহের মানুষ
ঝিনাইদহ অফিস: শিল্পে অনুন্নত ঝিনাইদহ জেলা থেকে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জেলা থেকে প্রতি মাসে শত শত বেকার যুবক কর্মসংস্থানের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। ফলে পাসপোর্ট অফিস, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রতিদিন শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষত ও নিরক্ষর বেকার যুবকরা ধর্ণা দিচ্ছেন। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের অভাব এবং দারিদ্রতার কারণেই অনেকে বিপদজনক পথ পাড়ি দিয়ে উন্নত দেশে যাওয়ারার পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেকের অকাল মৃত্যু ঘটছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত হরিণাকুণ্ডু ও ঝিনাইদহ সদর থানার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত ২৫ জন মানুষ সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়ার তথ্য আছে। এর মধ্যে হরিণাকুণ্ডুর চাঁদপুর ও সড়াবাড়িয়া গ্রামের ৮ জন, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ৩ জন, পিরোজপুর গ্রামের দুইজন, মিয়াকুণ্ডু গ্রামের ৪ জন, মহামায়া ও গাড়ামারা গ্রামের ৮ জনসহ একাধিক যুবক। হরিণাকুণ্ডুর শ্রীফলতলা গ্রামের নাবাব আলী শিকদার কলেজে পড়তেন। কিন্তু চোখে-মুখে তাঁর চাকরি না পাওয়ার হতাশা ছিল। মনস্থির করেন বিদেশে যাবেন। ঝিনাইদহ কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এখন সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে চাকরি করছেন। নবাব আলীর মতো বংকিরা গ্রামের সুজন বিশ^াস, আব্দুল আলীম ও রোকনুজ্জামানও পাড়ি দিয়েছেন বিদেশে। আব্দুল আলীম জানান, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে আয়-রোজগারের মিল ছিল না। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এখন সৌদি আরব রয়েছি।’ ঝিনাইদহ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক সবিতা রানী মজুমদার জানান, বর্তমান বিদেশ গমনেচ্ছুদের মধ্যে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে যাওয়ার প্রবণতাই বেশি। তিনি বলেন, করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলা থেকে বিদেশে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ গেছেন। করোনার কারণে দুই বছর কিছুটা কম ছিল। ১২ ডিসেম্বর-২০২২ পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলার ১ লাখ ৪ হাজার ১২৩ জন নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ৮৪ হাজার ৫৩৩ জন পুরুষ ও ৯ হাজার ৫৯০ জন নারী রয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা সংক্রামণের মাত্রা কমে আসায় গত তিন বছরে ২৪ হাজার মানুষ বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ কাজ নিয়ে মালয়েশিয়া গেছেন। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মিল থাকায় কৃষি ও বাগানের কাজ নিয়ে জেলার মানুষ মালয়েশিয়ায় বেশি যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসটিতে দেখা গেছে কয়েক’শ বেকার যুবক ফিঙ্গার দিতে এসেছেন। ঝিনাইদহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক সাখওয়াত হোসেন জানান, প্রতিদিন ঝিনাইদহ জেলা থেকে শতাধিক মানুষ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন। এই হার মাসে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি বলে তিনি জানান। পাসপোর্টকৃতদের মধ্যে চিকিৎসা বা পড়ালেখার পাশাপাশি বেশিরভাগ যুবক বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করছেন। এদিকে বেকার যুবকদের ভিসা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে ঝিনাইদহ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ভিসা ও জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) স্মার্ট কার্ড থাকলে দরিদ্র বেকার যুবকদের বিদেশ যাওয়ার পুরো টাকা বহন করে থাকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এস কে সেফাতি জানান, ঝিনাইদহ জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা স্থাপিত হওয়ার পর থেকে চার বছরে প্রায় ১ হাজার ৮ শ যুবককে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ২০ কোটিরও বেশি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ গিয়ে যুবকরা প্রতি মাসেই ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করছেন বলে তিনি জানান। ঝিনাইদহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ রুস্তম আলী জানান, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে থেকে বেকার যুবকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখান থেকে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ নিয়ে যুবকরা বিদেশে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে ঝিনাইদহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে ১০টি ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্কার হিসেবে যারাই বিদেশে যাবেন, তাদেরই টিটিসি থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে থেকে যারাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন, তারা বেকার থাকবে না বলেও জানান অধ্যক্ষ রুস্তম আলী। ঝিনাইদহের মানবাধিকার কর্মী অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু বলেন, ‘সাধারণত স্কুলের গন্ডি পেরনো বেকার যুবকদের মাঠের কাজ ছাড়া রুজির রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা বিদেশে যাচ্ছেন। এই সুযোগে দালালযোগে বিদেশ পাড়ি দিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। বিদেশে কাজ করতে গিয়ে অনেকে ভালো রোজগার করে ফেরেন ঠিকই, কিন্তু অনেককে আবার প্রতারক দালালদের পাল্লায় পড়ে নিঃস্ব হতে দেখা যায়। তবে এখন অবৈধ পড়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করায় দালালদের দৌরাত্ম্য কমতে শুরু করেছে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ