দর্শনায় জেএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার অপচেষ্টা
- আপলোড তারিখঃ
২৫-১১-২০২১
ইং
দর্শনায় লেখাপড়া নিয়ে বকাবকি করায় মায়ের ওপর অভিমান করে মিম খাতুন (১৩) নামের এক জেএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা অপচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন পরানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মিমকে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে ভর্তি করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আত্মহত্যার অপচেষ্টাকারী মিম দর্শনার পরানপুর গ্রামের স্বপন আলীর মেয়ে ও দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় মিম নিজ বাড়িতে ছোট বোনের সঙ্গে খেলা করছিল। এসময় মিমের মা আফরোজা তাকে খেলা বন্ধ করে লেখাপড়া করতে বলে। মিম পড়তে না বসলে আফরোজা বেগম তাকে বকাবকি করে। এক পর্যায়ে মিম মায়ের ওপর অভিমান করে নিজ ঘরে গলায় ওঁড়না দিয়ে ফাঁশ লাগিয়ে আত্মহত্যার অপচেষ্টা করে। এ ঘটনার কিছু সময় পড়েই পরিবারের সদস্যরা মিমকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুল ন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিমকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাপসাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করে।
মিমের চাচা রিপন হোসেন বলেন, ‘মিমের জেএসসি পরীক্ষা চলছে। মিম সন্ধ্যায় লেখাপড়া না করে ছোট বোনের সঙ্গে খেলা করছিল। এসময় মিমের মা তাকে বকাবকি করে। এরই এক পর্যায়ে মিম মায়ের ওপর অভিমান করে নিজ ঘড়ে গলায় ওঁড়না দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মিমের মায়ের চিৎকারে আমরা ছুটে যেয়ে মিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পরিবারের সদস্যরা মিম নামের এক কিশোরীকে জরুরি বিভাগে নেয়। সে গলায় ফাঁশ লাগিয়ে আত্মহত্যার অপচেষ্টা করেছে বলে জানতে পারি। জরুরি বিভাগ থেকে মিমকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাপসাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করি। মিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
কমেন্ট বক্স