বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী!
- আপলোড তারিখঃ
১২-০৯-২০২০
ইং
সরিষাডাঙ্গায় বিয়ের আসরে পুলিশ-ইউপি চেয়ারম্যনের হস্তক্ষেপ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নীলমণিগঞ্জ সরিষাডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) চুয়াডাঙ্গার সদস্যরা গত বুধবার খবর পায় সরিষাডাঙ্গা গ্রামের এক শিশু শিক্ষার্থীকে বাল্যবিবাহ দেওয়া হচ্ছে। তারা বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশকে অবহিত করে। সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে ১৪ বছর বয়সি ওই ছাত্রীর পিতাকে থানায় ডাকে এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অবহিত করে। একই সঙ্গে ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত ওই ছাত্রীর বিয়ে দিবে না মর্মে মুচলেকাও নেওয়া হয় তাঁর কাছ থেকে। তবুও এর ঠিক দুদিন পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ করে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করে তার পরিবার। বিষয়টি এনসিটিএফ চুয়াডাঙ্গার সদস্যরা জানতে পেরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খানকে জানায়। খবর পেয়ে ওসি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেনকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠান এবং মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দারকেও তিনি ঘটনাটি জানান। পরে ছেলে পক্ষ এবং মেয়ে পক্ষকে সরিষাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দারের কার্যালয়ে নিয়ে যায় পুলিশ এবং আবারও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে তাদের অবগত করা হয়। এসময় ১৮ বছরের আগে কোনোভাবেই মেয়েকে বিবাহ দেবে না বলে জানায় মেয়ের পরিবার। তারা তাদের এরূপ কাজের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন।
চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার জানান, প্রতিনিয়ত মেয়েটির খোঁজখবর রাখবেন এবং মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সকল প্রকার সহযোগিতা করবেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন, এনসিটিএফ জেলা কমিটির সহসভাপতি মিথিলা ফাহারিয়া, শিশু গবেষক ফজলে রাব্বী অন্তর, চাইল্ড পার্লামেন্ট সদস্য শাহরিয়ার নাফিজ সাঁজ, সদস্য ইয়াস প্রমুখ।
কমেন্ট বক্স