যাত্রীদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ও বর্ধিত ভাড়া নিয়ে বিস্তর আলোচনা
- আপলোড তারিখঃ
০৩-০৬-২০২০
ইং
সমীকরণ সংলাপে কথা বললেন পরিবহন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তিন কর্তা
বিশেষ প্রতিবেদক:
সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক ‘সমীকরণ সংলাপ’র এবারের প্রসঙ্গ ছিল ‘গণপরিবহন চলাচল শুরু : যাত্রীদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ও আমাদের করণীয়’। সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ও তুমুল আলোচিত এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন বিআরটিএ, পরিবহন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল তিনজন। তাঁরা হলেন চুয়াডাঙ্গা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মইনদ্দিন মুক্তা, বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান এবং ডা. আউলিয়ার রহমান। দীর্ঘ লকডাউনের পর গণপরিবহণ চালাচলের নানা বিষয় নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক সময়ের সমীকরণ ফেসবুক পেজে প্রচারিত ‘সমীকরণ সংলাপ’ পরিচালক ও সঞ্চালক দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের মুখোমুখি হয়েছিলেন অতিথিরা। পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকের গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় এবং বিশেষ প্রতিবেদক এস এম শাফায়েতের প্যানেল প্রযোজনায় শুরুতে সঞ্চালকের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর কথা বলেন চুয়াডাঙ্গা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মইনদ্দিন মুক্তা।
সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ৬০% ভাড়া বৃদ্ধিতে গণপরিবহন চলাচল শুরু হওয়ার পর কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের বর্ণনায় এ কে এম মইনদ্দিন মুক্তা বলেন, গত ৩১/০৫/২০২০ তারিখে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে যে আলোচনা সভার মাধ্যমে আমরা সকলেই সুন্দরভাবে সমস্তকিছু মেনে নিয়ে বাস চালু করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় দূরপাল্লার পরিবহনগুলো চলাচলে খুব একটা জটিলতা সৃষ্টি না হলেও লোকাল সার্ভিসগুলো নানান জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। তার মূল কারণ হলো রাস্তায় অহরহ অবৈধ যান। কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়াই নিবন্ধনহীন গাড়িগুলো দাপটের সাথে যাত্রী তুলছেন। মোড়ে মোড়ে অসংখ্য অটো এবং আলমসাধু থাকার কারণে যাত্রীরা সেগুলোতে করে গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। যার কারণে বাসগুলো যাত্রী সংকটে ভুগছে। এতে করে লোকশান গুনতে হচ্ছে বাস মালিকদের। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
৬০% ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে দায়িত্ব থাকা বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমান বলেন, প্রথমেই তিনি সরকারের নির্দেশনা মেনে গাড়ির চালক এবং কন্ট্রাকটার এবং যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করার বিষয়ে বলেন। সেই সাথে বাস মালিকদের যাত্রী নেওয়ার ব্যাপারে যে সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়েছে, যেমন ৫০ সিটের গাড়ি হলে ২৫ জন যাত্রী নিতে পারবে, এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে এবং পূর্বের ভাড়ার ৬০% বৃদ্ধি অর্থাৎ ১০ টাকা হলে ১৬ টাকা নিতে পারবে। এটি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত, তাই এটির বাইরে গেলে কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখী হতে হবে বলে তিনি জানান। তিনি গাড়ি মালিকদের উদ্দেশে বলেন, গাড়িতে যাত্রী নেওয়ার সময় অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং একটা যাত্রী নেমে গেলে ওই সিটে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। মাস্কবিহীন কোনো যাত্রীকে বাসে নেওয়া যাবে না বলেও তিনি জানান।
দীর্ঘ লকডাউন সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার পর আমাদের কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং পরিবহন মালিকদের কী ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আউলিয়ার রহমান বলেন, লকডাউন পরবর্তী কমিউনিটি ট্রেনস মিশনটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এটা আমরা ডাক্তাররা আগেই সন্দেহ করেছিলাম। যা আপানার লকডাউন পরবর্তী দুই দিনের মৃত্যু ও আক্রান্তের হার দেখে অবগত হয়েছেন। তারপরও এখন আমাদের লকডাউন পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। সেই জায়গা থেকে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে, সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুতে হবে, নিরাপদ স্থানে চলাচলের চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না। এছাড়াও আমাদের নিজেদেরকে খেয়াল রাখতে হবে আমার দ্বারা কেউ যেন আক্রান্ত না হয় এবং কারো দ্বারা যেন আমি আক্রান্ত না হয়। সে বিষয়ে আমাদের সকলকে যার যার জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। তিনি গণপরিবহণের উদ্দেশ্যে বলেন, গণপরিবহণ ধৌত করতে হবে। যাত্রী নামার পর বাসে ভেতর বাইরে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। মাস্কবিহীন যাত্রী ওঠানো যাবে না। যাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সব সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাথে রাখতে হবে। বাস থেকে নেমে হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগাতে হবে। বাসায় গিয়ে কাপড়গুলো ভালো করে ধুয়ে অথবা কড়া রোদে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা শুকাতে হবে এবং বাসার যে যে স্থানে স্পর্শ করা হবে, সেই সেই স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
কমেন্ট বক্স