শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নতুন করে বিনিয়োগে বিপাকে পড়েছি : ব্যবসায়ীরা

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০৫-২০২০ ইং
নতুন করে বিনিয়োগে বিপাকে পড়েছি : ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচ দিনের মাথায় অবশেষে পুনরায় বন্ধ করা হলো মার্কেট ও অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এতে চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খোলার পর পুনরায় বন্ধ করাটা তাঁদের জন্য বেশি লোকসানের। দোকান-পাট বন্ধ থাকায় লোকসান হচ্ছিল একরকম, কিন্তু খোলার পর ঈদ বাজার থাকায় নতুন করে মালপত্র উঠিয়েছিলেন তাঁরা। কিছুটা আশার আলো দেখছিল ব্যবসায়ীরা। এখন পুনরায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় লোকসানের হারটি বেড়ে গেলা কয়েক গুনে। জানা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম-কানুন না মানায় গণবিজ্ঞপ্তিতে জারি করে মার্কেট ও অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি মার্কেটগুলো পুনরায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। আরও কয়েকদিন যদি সময় দেওয়া হতো, তাহলে স্বাস্থ্য-সুরক্ষার ব্যাপারে পুরোপুরিভাবে সফলতা পাওয়া যেত। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু স্বাস্থ্য-সুরক্ষার সরঞ্জামাদি তৈরির অর্ডারও দিয়েছিলেন তাঁরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার ইবু বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক আমাদেরকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বসেছিলেন। আলোচনা করেই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, স্বাস্থ্য-সুরক্ষার ব্যাপারে আরও কয়েকটা দিন সময় দিলে ভালো হতো। ব্যবসায়ীরা সব রকম প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। তিনি বলেন, এটি ঠিক, বাজারে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। কারণ গ্রাম থেকে শুরু করে সব স্থান থেকেই প্রচুর পরিমাণে মানুষ মার্কেটে আসছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ থাকাও এটির অন্যতম কারণ। সব প্রয়োজনগুলোই সারতে চাচ্ছিল মানুষেরা। তবে এটিও ঠিক যে, প্রথম দুই দিনের মতো ভিড় আর ছিল না। প্রতিদিনই লোকজন কম ছিল। আবার সব থেকে বড় কথা ঈদ বাজার। আর এটির কারণেই এখন ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁরা নতুন মালপত্র উঠিয়ে এখন বন্ধ হওয়ায় চরম বিপদে পড়েছে। সমবায় নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ বলেন, প্রথমে লকডাউনের কারণে বন্ধ ছিল। তখনও আমাদের লোকসান হচ্ছিল। তবে তাতে আমরা আপত্তি করিনি। কিন্তু খোলার পর পুনরায় বন্ধ করায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ল। দোকান খোলার সুযোগ পেয়ে আমরা ঈদ বাজার হিসেবে নতুন নতুন মালপত্র উঠিয়েছি। সেগুলিই এখন আমাদের গলার কাটা হলো। এই মালগুলো তুলতে নতুন করে ধারপত্রও করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমবায় নিউ মার্কেট জীবাণুনাশক টালেনও তৈরি করছে। সেটি আজ শুক্রবার বসানোর কথা ছিল। আমরা স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করছিলাম। আবার নতুন স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সরঞ্জামাদিও তৈরি করাচ্ছিলাম। তিনি বলেন, প্রশাসন যদি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে হলেও, আমাদের আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করত, তাহলে হয়ত ভালো হতো। আমরা কিন্তু আস্তে আস্তে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে ফেলছিলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছক এক ব্যবসায়ী বলেন, সারা বছর মোটামুটি বেচাকেনা হয়। তবে ঈদ আসলেই কিছুটা লাভের আশা থাকে। এবার সেটা না করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। তাতে খুব একটা সমস্যা হতো না। তবে খোলার কারণে নতুন মালপত্র উঠালাম। স্বাস্থ্য-সুরক্ষার সরঞ্জামাদি বানালাম। সেগুলি কী হবে? আমাদের এখন লোকসান বেড়ে গেল। এই নাটকের দরকার ছিল না। খুলতই না। আর খুলল যখন, তখন বন্ধ না করে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকত। আমরা মেনে নিতাম। জরিমানা করছিল, সেটাও তো ভালো ছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর, এখন পরিস্থিতি ভালো না। আবার এই উপরোক্ত লোকসান, আমাদেরকে পুরোপুরি দমিয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল, কয়েকদিন সময় দেওয়া। হঠাৎ করে আজই ফোন দিয়ে, আজই নেতৃবৃন্দের ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। নেতারা কি আর সবার কথা বোঝে। ঘাড় নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে চলে এসেছে।


কমেন্ট বক্স