ত্রাণের চাল বিতরণে দুই কেজি করে কম দেওয়ার অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
২৯-০৪-২০২০
ইং
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে ত্রাণের প্রতি বস্তায় দুই কেজি করে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারিভাবে দরিদ্রদের মধ্যে মাথাপিছু ১০ কেজি হারে ত্রাণের চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৮ কেজি ৫ শ গ্রাম থেকে ৯ কেজি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দাবি, জীবননগর উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে তাঁদের নিকট ৩০ কেজি করে চালের বস্তা দিলে তারা ওই চাল তিনজন প্রতিবেশীর মধ্যে বিতরণ করছেন।
উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের প্রতিবন্ধী আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারিভাবে আমাকে ১০ কেজি চাল দেওয়া হলেও বাড়িতে এসে ওজন করে দেখি সাড়ে ৮ কেজি। একই অভিযোগ করেন একই গ্রামের মামুন।
এ বিষয়ে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন বলেন, ‘চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে যেভাবে আমার ও ট্যাগ অফিসারের নিকট চাল দেয়, আমরা সেভাবে দরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণ করি। খাদ্যগুদাম থেকে ৩০ কেজি চালের বস্তা দেয়। আমরা সে অনুযায়ী ৩০ কেজি চাল তিনজনের মধ্যে বিতরণ করি। বস্তা তাদের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা বাড়িতে যেয়ে ভাগ করে নেয়। তা ছাড়া খাদ্যগুদাম থেকে আমাদের নিকট চাল দেওয়ার সময় পরিমাপ করে দেয় না।’
একই কথা বলেন মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘চাল নিলেই ৩০ কেজির বস্তায় সাড়ে ২৮ কেজি-২৯ কেজি চাল থাকে। খাদ্যগুদাম থেকে বস্তা প্রতি যে চাল কম দিচ্ছে, তা তো পূরণ করা হচ্ছেই না বরং চাল কম দেওয়ার বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
তথ্যনুসন্ধনে জানা গেছে, বস্তা প্রতি চাল কম দেওয়ার পাশাপাশি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি মাসোয়ারা। সীমান্ত ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত ইউনিয়নে যে চাল বিতরণ করা হয়েছে, তাতে কোনো কম দেওয়া হয়নি। উপজেলা খাদ্যগুদাম যে পরিমাণ চাল দিয়েছে, আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমনভাবে বিতরণ করেছি। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠলে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে চাল ওজন করে দেখি বস্তা প্রতি দুই থেকে আড়াই কেজি চাল কম আছে।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউসার আহম্মেদ বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে কোনো চাল কম দেওয়া হচ্ছে না। এখান থেকে চাল মেপে চেয়ারম্যান এবং ট্যাগ অফিসারের নিকট দিয়ে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে চাল কম দেওয়ার কথা না। যদি কোনো বস্তায় কোনো কারণে চাল কম থাকে, তাহলে তা পূরণ করে দেওয়ার কথা। তা ছাড়া যদি কেউ এই চাল নিয়ে দুর্নীতি করে থাকেন, তাহলে তদন্তপূর্বক তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স