শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

লকডাউনে আইনের কঠোরতা ও মানবিকতা

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৪-২০২০ ইং
লকডাউনে আইনের কঠোরতা ও মানবিকতা
সমীকরণ প্রতিবেদন: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বাংলাদেশেও দেখা দিলে প্রাণঘাতি এই ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। এ লকডাউনে সবাই যাতে ঘরে থাকেন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলেন সেই জন্য বাংলাদেশ পুলিশ তাদের ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে ইতিমধ্যে সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এর ব্যতিক্রম হয়নি চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও। করোনার সংক্রমণ রোধে ও জনসচেতনতা বাড়াতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে বিভিন্ন জেলার সাথে চুয়াডাঙ্গা জেলার ২৪টি সীমান্ত পথে ৩টি শিফটে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ করোনার সংক্রমণ রোধে ও জনসচেতনতা বাড়াতে ২৪ ঘন্টা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়ীতে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। পুলিশ তাদের রুটিন কাজের বাইরেও মানবিক সহায়তা অব্যহত রেখেছে। এরমধ্যে হঠাৎ করে চুয়াডাঙ্গায় জেলায় নতুন করে ৬ জন ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ৫ জন এ জেলার বাসিন্দা, চলমান লকডাউনের মধ্যে অনেকটা গোপনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করেন এরা। অন্য জেলা থেকে আসা এই ৫ ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভ হলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন লকডাউন সত্ত্বেও কিভাবে অন্য জেলা থেকে এরা চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করলো। এমন প্রশ্নের প্রতি উত্তরে অনেক সচেতন মানুষ বলেন, চলমান করোনা সংকট মোকাবেলায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। লকডাউনের বিধি-নিষেধ থাকা সত্ত্বেও নিরুপায় অনেকেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে নিজ জেলায় নিজ বাড়িতে ফিরছেন। কখনও তা পুলিশের নজরে এলেও মানবিক কারণে এদের ফিরিয়ে দিতে পারছে না পুলিশ। যদিও করোনা মোকাবেলায় সম্মুখভাগে থাকা ডাক্তার-নার্স, পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরাই আক্রান্ত হয়েছেন বেশি। এতকিছুর পরেও অনেকেই পুলিশের যথাযথ কর্তব্যপালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এ ব্যপারে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম প্রসঙ্গক্রমে বলেন, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পুলিশ জনবান্ধব পুলিশিং-এ নিজেদের ভূমিকা রেখে চলেছে। জনতার পুলিশ হিসেবে পুলিশের মানবিক দিকগুলোকে উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি একটি ছবি দেখিয়ে তা বিশ্লেষণ করে বলেন ‘০৭ দিন বয়সের একটি শিশু সন্তানকে নিয়ে তার পিতা-মাতা যখন শিশুটির সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ঢাকা শহর থেকে গ্রামে ফিরে আসেন, তখন আইনের পরিধির মধ্যে থেকেও একজন পুলিশ সদস্যকেও মানবিক দিকটি সক্রিয় বিবেচনায় নিতে হয়। ফলে ঐ পিতা-মাতাকে তাদের শিশু সন্তানসহ নিজ জেলায় প্রবেশে বাঁধা দেওয়াটা অমানবিক। কারণ লকডাউন যত কঠিনই হোক না কেন, মানবিকতার চেয়ে কখনো বড় হতে পারে না। আইন সকলের জন্য সমান হলেও কৌশলগত প্রশ্নে সর্বক্ষেত্রে আইনী প্রয়োগ সমানভাবে করা যায় না। তিনি একইসাথে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে ঘোষিত লকডাউন মেনে চলতে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর প্রতি জোর আহবান জানান।


কমেন্ট বক্স