মুজিবনগরে করোনা সন্দেহে মৃত ব্যক্তির দাফনে ৫ আলেমের অস্বীকৃতি
- আপলোড তারিখঃ
২৩-০৪-২০২০
ইং
মুজিবনগর অফিস:
মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা সন্দেহে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মেহেরপুর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত পাঁচ আলেম। পরে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম দায়িত্ব নিয়ে জানাজা ও দাফনের কাজ শেষ করেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে মুজিবনগর উপজেলায় এ ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, বুধবার দুপুরে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে জ্বর, ঠাণ্ডা, কাঁশি নিয়ে ইদ্রিস শাহ (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ইদ্রিস শাহ মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের সুফল শাহ’র ছেলে।
মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, ‘মেহেরপুর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন-কাফনের ক্ষেত্রে মুজিবনগরের জন্য আলেমদের নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে এক দিন আমার অফিসে ডেকে তাঁদের ব্রিফিংও করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফনের জন্য আজ (বুধবার) ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত পাঁচজনসহ মোট ছয়জন আলেমকে ডাকা হয়। করোনা সন্দেহে মৃত্যুর কথা শুনে পাঁচজন সদস্যই অপারগতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, আগে থেকে তাঁদের বলা হয়নি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে দাফন করতে হবে। আমি তাঁদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম। যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি হয়ত করোনা আক্রান্ত না, শুধু সন্দেহের কারণে নমুনা পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, শুধু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত বা করোনা সন্দেহে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য এ আলেম কমিটি গঠন করা হয়।
মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘নানা অজুহাতে তাঁরা এক-দুইজন করে আমার কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান। আমরা তখন খুব বিপদে পড়ে যাই এবং অত্যন্ত নিরুপায় হয়ে পড়ি। পরে আমি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ান আহমেদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম তিনজন একসঙ্গে লাশ দাফনের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’ ইউএনও আরও জানান, ‘হুজুরদের জন্য আনা পিপিই স্থানীয় মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের মধ্য থেকে চার যুবককে পরানো হয়। জানাজা পড়ানোর জন্য আমরা নিজেরাই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোপালনগর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম এসে জানাজায় ইমামতি করেন। অবশেষে আমরা তিনজন কর্মকর্তা ও পাঁচজন যুবক মিলে লাশ দাফনের কাজ শেষ করি।’
কমেন্ট বক্স