মুজিবনগরে করোনা শনাক্ত, পাঁচ বাড়িসহ ব্র্যাক অফিস লকডাউন
- আপলোড তারিখঃ
২২-০৪-২০২০
ইং
মুজিবনগর অফিস:
মেহেরপুরের মুজিবনগরে ১ম একজন করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মুজিবনগর থেকে ৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর সোয়াব (নাক ও গলার কফ) পাঠানো হয়েছিল। এদের মধ্যে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে জাহাঙ্গীর আলম নামের একজনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। জাহাঙ্গীর আলম চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার ডাউকি ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের রমজান মুন্সির ছেলে। তিনি মুজিবনগর উপজেলায় ব্র্যাক অফিসে যক্ষা পরীক্ষার করতেন (ব্র্যাক স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে কর্মরত আছেন)। তিনি কয়েক দিন আগে কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা গিয়েছিলেন যক্ষার ওষুধ সংগ্রহ করার জন্য। জাহাঙ্গীর আলম মুজিবনগর উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক মুনসি মোকাদ্দেস হোসেনের বাড়ি ভাড়ায় থাকেন। জাহাঙ্গীর আলম করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তার পরিবারের তিনজন ও বাড়িওয়ালা মুনসি মোকাদ্দেস হোসেনের পরিবারের সদস্যদের হোম কোরায়েনটাইন রেখেছে প্রশাসন। সেই সাথে আশেপাশের ৫টি বাড়ি লকডাউন এবং তার কর্মস্হল ব্র্যাক অফিসও লকডাউন করেছে প্রশাসন। এছাড়া তার সংপর্শে আশা লোকদের চিহ্নিত করে হোম কোরায়েনটাইন রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উসমান গনি ঘটনাস্থলে যেয়ে এ লকডাউন করেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজওয়ান আহমেদ ও রতনপুর ক্যাম্পের ইনচার্য এসআই সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মীর ভাড়াবাড়ির মালিক স্কুলশিক্ষক মুনসি মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘চার মাস আগে সাতক্ষীরা থেকে বদলি হয়ে মুজিবনগর অফিসে যোগদান করে সপরিবারে আমার বাসায় ভাড়া থাকা শুরু করেন ব্র্যাকের ওই কর্মী। তাঁর শরীরে কোনো প্রকার উপসর্গ ছিল না। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।’ রিপোর্ট পজেটিভ আসায় বুধবার সকালে বাড়িটি লকডাউন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে কোনো উপসর্গ নেই এবং তিনি সুস্থ আছেন। গত এক সপ্তাহ তিনি কার কার সংস্পর্শে গেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মুজিবনগরে ব্র্যাক অফিসের ওই স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মুজিবনগর ব্র্যাক অফিস লকডাউন করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উসমান গনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ব্র্যাক অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে না এসে বাসায় বসে কাজ করার নির্দেশ দেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মুজিবনগর উপজেলা ব্র্যাক অফিসে ২৩ জন স্টাফের মধ্যে ১৭ জন অফিস নিবাসী এবং ৬ জন বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। এদের মধ্যে অফিসের ১৭ জনকে অফিসে থাকার এবং বাকি ৬ জনকে নিজ নিজ ভাড়া বাড়িতে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমেন্ট বক্স