শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দাফনের জন্য খাটিয়া দিল না গ্রামবাসী, মাটিতে রেখেই জানাজা

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৪-২০২০ ইং
দাফনের জন্য খাটিয়া দিল না গ্রামবাসী, মাটিতে রেখেই জানাজা
কালীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে ইসরাইল হোসেন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। ৪-৫ দিন ধরে তিনি জ্বর, ঠাণ্ডা, কাঁশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত নয়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত ইসরাইল হোসেন উপজেলার জামাল ইউনিয়নের খানজাপুর গ্রামের মৃত অকিল উদ্দীনের ছেলে। ইসরাইল হোসেনের জামাই কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া নদীপাড়া এলাকার বোরহান উদ্দিন জানান, তাঁর শ্বশুর গত ৪-৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। এছাড়া তাঁর সর্দি, কাঁশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। গত শুক্রবার বিকেলে ইসরাইল হোসেন জামাইয়ের বাড়িতে আসেন। শনিবার রাতে হঠাৎ তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এ সময় তাঁকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। করোনা আক্রান্তের প্রায় সব উপসর্গই ছিল ইসরাইল হোসেনের। রাত সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহ করেন এবং রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে পরিবারের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। জানা যায়, মরদেহের দাফন ও কাফনের ব্যবস্থা করেন কালীগঞ্জ উপজেলার ছয় আলেম। হাসপাতাল থেকেই মরদেহের গোসল করানো হয়। এরপর তাঁদের মাধ্যমে একটি সিএনজিতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মৃত ইসরাইল হোসেনের গ্রাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের খানজাপুর গ্রামে। এ সময় জানাজা পড়ানোর জন্য আলেমদের পক্ষ থেকে গ্রামের মসজিদের খাটিয়া চাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসী খাটিয়া দিতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মাটিতে রেখেই মরহুমের জানাজা সম্পন্ন করেন তাঁরা। মরদেহের দাফন-কাফনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ফারুক নোমানী, মাওলানা রুহুল আমিন, হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ, মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা আতাউর রহমান ও হাফেজ শাহ জালাল। ইমাম ফারুক নোমানী জানান, জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য গ্রামবাসীর কাছে মসজিদের খাটিয়া চাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসী সেটা দিতে অস্বীকার করে। পরে মরদেহ মাটিতে রেখেই জানাজার নামাজ সম্পন্ন করে লাশ দাফন করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন লুবনা মৃত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা স্বজনদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘চার দিন ধরে জ্বর ছিল ইসরাইল হোসেনের। ঠাণ্ডা-কাঁশিও ছিল এবং তাঁর গলাব্যাথাও ছিল। আমাদের সঙ্গে আগে থেকে সে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি। গত দুই দিন ধরে তাঁর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে আনার পথে সে রান্তার মধ্যে মারা গেছে।’ তিনি আরও জানান, ‘হাসপাতাল থেকেই মারা যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করি। নমুনা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি। রিপোর্ট হাতে পেলে করোনা আক্রান্ত কি না জানা যাবে। রোববার সকালে মৃত ব্যক্তির মরদেহ হন্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহের লাশটি দাফনের জন্য ১০ জনের একটি টিম কাজ করছে।’ কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া করোনা উপসর্গ নিয়ে ইসরাইল হোসেন নামের এক বৃদ্ধ মারা যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, মারা যাওয়ার পর তাঁর লাশ নেওয়ার জন্য কোনো গাড়ি পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তেমন কোনো লোকজন ছিল না। লাশ বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেওয়া, জানাজা, দাফনসহ সবকিছুই কয়েকজন তরুণ আলেম ও পুলিশ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। পুলিশের সঙ্গে একজন ডাক্তার, একজন মসজিদের ইমাম ও মৃত ব্যক্তির এক ছেলে ছিল। সকালে গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বাড়ি দুটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রাণী সাহা জানান, মৃত ইসরাইল হোসেনের গ্রামের বাড়ি জামাল ইউনিয়নের খানজাপুর গ্রামের বাড়ি ও শহরের আড়পাড়া নদীপাড়া এলাকায় জামাই মো. বোরহান উদ্দিনের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।


কমেন্ট বক্স