প্রতিবেদক, তিতুদহ:
চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপিতে ১০ টাকা কেজি দরে সরকারি চাল বিক্রি কার্যক্রমে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ডিলার হায়দার মল্লিকের ওপর। জানা গেছে, কয়েকবছর যাবত নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নের ৬০৩ জন হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেন হায়দার মল্লিক। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি চাল ক্রয় করে নিয়ে যাবার সময় পাশের দোকানে যেয়ে চাল পরিমাপ করে দেখেন প্রতি বস্তায় ২৮ কেজি চাল আছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান আকতার হোসেনকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিষয়টির সতত্যা পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) ইসরাত জাহান দ্রুত গড়াইটুপি বাজারে পৌঁছান এবং তিনিও সব বস্তাতেই প্রায় ওই পরিমাণ চাল কম দেখতে পান।
এ বিষয়ে হায়দার মল্লিক জানান, ‘আমার এখানকার সব চাল সরোজগঞ্জ সরকারি ফুড গোডাউন থেকে আনা। ওখান থেকে সব বস্তা ওজন না করেই এনেছি। ওখান থেকেই হয়তো বস্তায় কম দিয়েছে। তাই এখানে আসার পর প্রায় সবগুলোতেই চাল কম আছে। পরে এসিল্যান্ডসহ গড়াইটুপি বাজারের ডিলার হায়দার মল্লিককে সরোজগঞ্জ সরকারি ফুড গোডাউনে নিয়ে গিয়ে কয়েকটি বস্তা ওজন করলে সেখানকার সব বস্তার সঠিক ওজন লক্ষ্য করেন এবং সবগুলো বস্তাতেই ৩০ কেজি চাল দেখতে পান।

এ বিষয়ে এসিল্যান্ড ইসরাত জাহান বলেন, এ ঘটনায় আরও তদন্ত হবে। তদন্তের ফল হাতে আসলেই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরে তিনি সবার মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল ওজন করে বিক্রির নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে গড়াইটুপি ইউপির আড়ীয়ার চক পাড়ার লুৎফর রহমান জানার, প্রতিবার এই ডিলারের দেওয়া চাল বাড়িতে গিয়ে ওজন করলে বস্তায় ২ কেজি করে কম হয়। তবে ভয়ে কিছু বলতে পারি না, যদি এই কার্ডের তালিকা থেকে নাম কেটে দেয়।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবারই মানুষ আমাকে বস্তায় চাল ওজনের কমের কথা বলেন। তবে এবার হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এর সঠিক বিচার করবেন বলে আমি মনে করি।’