রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এ যেন এক অচেনা পৃথিবী

  • আপলোড তারিখঃ ০৮-০৪-২০২০ ইং
এ যেন এক অচেনা পৃথিবী
'- নাজমুল হক স্বপন করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব আজ স্থবির। জীবন আজ চার দেয়ালে বন্দী, পোষা পাখির ন্যায় খাঁচায় আটকে গেছে। অজানা এক ভয়ে শঙ্কিত গোটা বিশ্বের মানুষ। কখন না আবার করোনাভাইরাস এসে হানা দেয়। এমন জীবন গত শত বছরেও মানুষ যাপন করেনি। চোখের সামনে আপনজনের মৃত্যু। প্রতিবেশীর লাশ, বন্ধুদের মৃত্যুর সাথে লড়াই, এ যেন এক অচেনা পৃথিবী। এমন রূপ আমরা কল্পনাতেও দেখিনি, সিনেমায় দেখি। সিনেমায় দেখা এসব কাহিনী কখনো বাস্তবে আসবে, তা কল্পনায়ও ভাবেনি মানুষ। কিন্তু এটাই সত্যি। আমরা বাস্তবে করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছি। এ এক কঠিন যুদ্ধ। অদৃশ্য দানবের সাথে যুদ্ধ করছি। যে ভাইরাসকে দেখা যায় না অণুবিক্ষণ যন্ত্র ছাড়া। তার সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে জীবন বাঁচাতে। ২০১১ সালে আমেরিকায় মুক্তিপ্রাপ্ত মাইকেল শেমবার্গ প্রযোজিত ম্যাট ডেমন অভিনীত ‘কনটাজিওন’ (ঈড়হঃধমরড়হ : রোগ সংক্রমণ) সিনেমাটির কথা মনে পড়ছে। এই সিনেমাটি হয়ত অনেকে দেখেওছেন। সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল ভাইরাসকে কেন্দ্র করে। এখন পৃথিবীতে যা ঘটছে, তাতে মনে হতে পারে যেন ওই সিনেমাটিই দেখছি। আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো কখনো কি ভেবেছি, এমন দুঃসময় আসবে। সিনেমাতে হয়ত রাইটার, অভিনেতা চরিত্র বদলাতে পারে বাঁচিয়ে দিতে পারে মৃত্যুপথ যাত্রীকে। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়। করোনাভাইরাসের প্রথমে হানা চীনে। এরপর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। যে দেশগুলো এর হানায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্র¯,’ সেগুলো হলো- ইতালি, ইরান, আমেরিকা ও স্পেন। এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে প্রতি মুহূর্তে। ইতালি এখন মৃত্যুপুরীর দেশ। কী মর্মান্তিক! ইতালির পর যে এখন সব থেকে বেশি আক্রান্ত, সে হলো আমেরিকা। আর এই সংখ্যা প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ডঐঙ বলছে ইতালিকেও ছাড়িয়ে যাবে আমেরিকা। এ লেখা যখন লিখছি, তখন আমেরিকায় করোনায় আক্রান্ত ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭ শ ৫৮, সেরে উঠেছেন ১৯ হাজার ৭ শ ৮৮ আর মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ হাজার ৯ শ ৮১ জন। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৬ শ ৮৪, সেরে উঠেছেন ১৩ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৭ শ ৫৮ জনের। যার মধ্যে বাংলাদেশি ৬৫ জন। যা সেই সিনেমার মতো মনে হচ্ছে। মুভির ভাইরাস যেন জীবন্ত হয়ে দেখা দিয়েছে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউইর্য়ক সিটির সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে বাংলাদেশের। জনসংখ্যার ঘনত্বের সাথে আমাদের দেশের সাদৃশ্য অনেকাংশে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৪ জন, মারা গেছেন ১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪১ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এই সময়ে মারা গেছেন আরও ৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৩৩ জন। আমরা যদি এখনো সতর্ক না হই, তবে পরিস্তিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে আমাদের জন্য। বাংলাদেশে এটির প্রভাব খুব খারাপভাবে পড়তে পারে। করোনাভাইরাসের কারণে শুধু জীবন থমকে গেছে, তা নয়। এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি, দৈনন্দিন কাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। মানুষ ঘরবন্দী হবার কারণে তাদের আয় কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকার চেষ্টা করছে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে। বাংলাদেশের সরকারও কর্মহীন হয়ে পড়া নি¤œ আয়ের মানুষের খাদ্য-সহায়তা দেওয়াসহ ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এগিয়ে এসেছে বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। এরাও সাধ্যমতো চেষ্টা করছে, সহায়তা দেওয়ার। মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। গবেষকেরা তাঁদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের। আমেরিকায় এখন ভ্যাকসিন ট্রায়াল চলছে। চেষ্টা চলছে জাপানেও। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করেছে ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখন অপেক্ষা প্রাণী দেহে পরীক্ষার। তাঁরা বলছেন, বাজারে আসতে সময় লাগতে পারে ১২ থেকে ১৮ মাস। পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে, কবে ভ্যাকসিন বাজারে আসবে। আর রেহাই মিলবে এই করোনাভাইরাস থেকে। আপাতত এই ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত করার উপায় হলো জনসমসাগম এড়িয়ে চলা, ঘরে থাকা, একজন আরেকজনের সংস্পর্শে না আসা। যেহেতু ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় হাঁচি-কাঁশির মাধ্যমে, তাই ঘরে আবদ্ধ থেকে নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা রাখাই হচ্ছে উত্তমপন্থা। প্রযুক্তি এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান আমাদের অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা আসা করি, এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন দ্রুতই বাজারে আসবে, করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে মুক্ত করতে। পৃথিবীর মানুষগুলো আবার আগের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, বের হয়ে আসবে আপনজন হারানোর মর্মবেদনা থেকে।


কমেন্ট বক্স