রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জাহিদের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৩-২০২০ ইং
জাহিদের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন
দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী অভিযানে ফেনসিডিলসসহ আটকের পর মৃত্যু হওয়া মরদেহ দেখতে যান সাংসদ ছেলুন জোয়ার্দ্দার, মৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জাহিদ হাসান জাহিদের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল দশটার দিকে জিহাদের ময়নাতদন্ত শুরু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১২টার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতের লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এদিকে, কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. আবুল হোসেন ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির। ময়নাতদন্তের সময় সুপারভিশন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র সার্জারি কনসালট্যান্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় ও চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আলী হোসেন। জাহিদের ময়নাতদন্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, পিঠের নিচের দিকে সামান্য ক্ষত ছাড়া শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মৃতের হার্ট এবং গ্রেট ভেসেলস (মহাশিরা ও মহাধমনী) হিস্টো প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং কোনো প্রকার বিষক্রিয়ার উপস্থিতি নির্ণয়ে পাকস্থলি-লিভারের কিছু অংশ ও একটি কিডনি ঢাকার কেমিকেল এক্সামিনার মহাখালি বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে পরীক্ষার ফলাফল আসার পর চূড়ান্ত মতামত দেওয়া সম্ভব হবে। এদিকে, গতকাল সকালের দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে জাহিদ হাসানের মরদেহ দেখতে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনসহ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা। এ সময় নিহত জাহিদের পরিবারের সদস্যরাসহ নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের মধ্যে জাহিদের মৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সযোগে জাহিদের মরদেহ দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের কলোনিপাড়ায় জাহিদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। আসরের নামাজের পর জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহতের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। নিহত জাহিদের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলার চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম, দামুড়হুদা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঝন্টু, থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, সাবেক হউলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক জোয়ার্দ্দার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রসিদ, জেলা শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও পারকেষ্টপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম জাকিরিয়া আলম, যুবলীগ নেতা আবু তালেব, জেলা পরিষদের সদস্য ও সদর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবির ইসুব, থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আহাম্মদ সোনা, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন, নতিপোতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মাস্টার, জুড়ানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব ও ইউনিয়ন আওয়মী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকেরা। এ ছাড়াও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য বলেন, ‘আমি দেখছি আপনারা মূল কথাটি এড়িয়ে যাচ্ছেন, সবাইকে একদিন মরতে হবে। কী অপরাধ করেছিল জাহিদ, যে তার জন্য তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে। আসল কথাটি কোনো নেতাই বলতে পারছেন না ভয়ে। আমাদের দুই এমপি পাওয়ারে আছেন, তারপরও জাহিদকে কেন পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো, এর কোনো প্রতিবাদও নেই।’ দামুড়হুদা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঝন্টু বলেন, ‘পুলিশের অত্যাচার থেকে আমরা রেহাই পেতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ওস্তাদের কাছে বিচার দিলাম।’ এ সময় থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘যেকোনো অপরাধেই পুলিশ ধরতে পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে দিনের বেলায় পিটিয়ে মেরে ফেলবে? স্বীকার করুক আর নাই করুক, মানুষ কিন্তু পাগল না, এটা বোঝে। এটা কোনো দিন বরদাস্ত করা যায় না। পুলিশের কাজ জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া, নিরাপত্তা না দিয়ে তারা একটা মানুষকে মেরে ফেলবে? পুলিশের কেউ থাকলে এই ম্যাসেজটা পুলিশ সুপার, আইজি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছান। পুলিশের দায়িত্ব এটা না যে একটা মানুষকে টেনেহিঁচড়ে মেরে ফেলতে হবে। তার দোষ থাকতে পারে, তার ভুল থাকতে পারে, তাই বলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?’ উল্লেখ, গত শনিবার দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী অভিযানে ফেনসিডিলসহ আটক জাহিদ হাসান জাহিদের (৪০) মৃত্যু হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জাহিদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু জাহিদের পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশ সদস্যরা জাহিদকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জাহিদের পরিবারের এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়। জাহিদের স্ত্রী ও আট বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। জাহিদ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দুইবার হাউলি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।


কমেন্ট বক্স