সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুজিবনগর ইউএনওর স্ট্যাটাস
- আপলোড তারিখঃ
১৫-০৩-২০২০
ইং
মুজিবনগর অফিস:
মুজিবনগর পিকনিক স্পটের গাড়ি পার্কিংয়ের ইজারা ও খাস আদায়-সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু তথ্য-সংবাদ ফেসবুকসহ কিছু পত্রপত্রিকায় প্রচারিত হওয়ায় দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন মুজিবনগর নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি। মহান স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণস্থান এবং জাতির পিতার নামে নামাঙ্কিত মুজিবনগর উপজেলার ভাবমূর্তি নষ্ট না হওয়ার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে ইউএনও গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি মনে করেন ফেসবুকসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে যে বিষয় বা ঘটনাগুলো লেখা হয়েছে, তা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়।
মুজিবনগর নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘মুজিবনগর পিকনিক স্পট ইজারা-সংক্রান্ত প্রকৃত ঘটনা আপনারা জানেন। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা টাকা লাগে না। তবে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে শিক্ষাসফরে আসা সাধারণ মানুষের গাড়ি পার্কিং এবং রান্নার জন্য মূল কমপ্লেক্সের বাইরে একটি পিকনিক স্পট রয়েছে, যা বেশ কয়েক বছর যাবৎ ইজারা প্রদান করা হচ্ছে। সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এটি কোনো সরকারি সায়রাত মহালভুক্ত নয়। অর্থাৎ হাটবাজার, জলমহাল বা বালুমহালের মতো নয়। তাই এখানে সরকারি বিভিন্ন সায়রাত মহালের মতো ইজারা বিজ্ঞপ্তিসহ অন্যান্য বিধিবিধান প্রযোজ্য নয়। এটি ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসক স্যারের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ে একটি কমিটি রয়েছে। তথাপিও অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারি সায়রাত মহাল ইজারার নিয়ম অনুযায়ী সকল বিধিবিধান অনুসরণ করে বেশ কয়েক বছর যাবৎ ইজারা প্রদান করা হচ্ছে। সে প্রেক্ষিতে পিকনিক স্পটটি ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে এ বছরও (২০২০ সাল) একটি জাতীয় পত্রিকা ও একটি স্থানীয় পত্রিকায় ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। পরপর তিনটি তারিখ অতিবাহিত হলেও নির্ধারিত মূল্যে কেউ ইজারা গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখায়নি। কারণ, প্রতিযোগিতার কারণে সরকারি মূল্য বিশ লাখের ওপরে উঠেছে। ফলে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তক্রমে নিয়মানুযায়ী ইউএনও-এর অনুকূলে খাস আদায় চলমান আছে।’
এ ছাড়াও ইউএনও তাঁর ফেসবুস স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘তবে পিকনিক স্পটটি ইজারা বিষয়ে কিছু প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ প্রয়োজন। ইতিপূর্বে এই পিকনিক স্পট ইজারা গ্রহণের জন্য বেশ প্রতিযোগিতা ছিল। অর্থাৎ কে কত টাকা দিয়ে ইজারা গ্রহণ করতে পারে, তার জন্য অনেক টাকা দর উঠত। এই অশুভ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দর ওঠে! স্বাভাবিকভাবেই আগত দর্শনার্থীদের থেকে নির্ধারিত রেটে টাকা আদায় করা হলে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মাসে এত বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় হওয়ার খুব কঠিন। ফলে তখন আগত দর্শনার্থীদের থেকে নির্ধারিত রেটের অধিক রেটে টাকা আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ ছিল। মানুষ তখন খুব হয়রানি হত। ফলে দর্শনার্থীদের হয়রানি লাঘবে জেলা কমিটি গাড়িপ্রতি টোল রেট কমিয়ে দেয়। কারণ, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স থেকে সরকারের টাকা আয় করা কোনো উদ্দেশ্য নয়, মানুষ যেন হয়রানি ছাড়া নির্বিঘ্নে শিক্ষাসফর শেষ করে বাড়ি ফিরে যেতে পারে, তা-ই মূল লক্ষ্য।’
খাস আদায় এবং এ আদায়ের অর্থ-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞাতার্থে ইউএনও তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, ‘জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তক্রমে ইউএনওর অনুকূলে খাস আদায় চলছে। এখানে বলে রাখা দরকার খাস আদায় করতে ১০-১২ জন মানুষ দরকার হয়, ইউএনও নিজে দাঁড়িয়ে থেকে খাস আদায় করেন না। জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে আলোচনাক্রমে ২০১৯ সালের ন্যায় এ বছরও অভিজ্ঞ কিছু লোক দিয়ে খাস আদায় কার্যক্রম চলমান আছে। এ ছাড়া পিকনিক স্পটের ভেতর কিছু আম গাছ রয়েছে, সেখান থেকেও খাস আদায় হয়। আম যখন পরিপক্ক হবে, তখন তা বিক্রি করে আদায়কৃত টাকা জমা প্রদান করা হবে। গত বছর এবং এ বছর এ পর্যন্ত খাস আদায়কৃত সকল টাকা মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের অনুকূলে জেলায় নির্ধারিত একাউন্টে জমা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের অনুকূলে কোনো সরাকারি বরাদ্দ নেই, কোনো লোকবলও নেই। এত বড় জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ সময়ে সময়ে জরুরি প্রয়োজনে টাকার দরকার হয়। এ জন্য ডিসি স্যারের সাথে আলোচনাক্রমে জরুরি কাজ শেষ করে বিল দাখিল সাপেক্ষে জেলা প্রশাসন থেকে যাচাইপূর্বক উক্ত বিল প্রদান করা হয়। এ ছাড়া অবশিষ্ট সকল অর্থই উক্ত একাউন্টে জমা রয়েছে।’
ইউএনও তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষাংশে উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে এরপরও যদি কারও মনে কোনোরূপ বিভ্রান্তি থাকে বা কেউ যদি যাচাই-বাছাই করতে চান, তাহলে জেলা প্রশাসক বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পরে। অবশেষে তিনি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কোনো বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বা খবর প্রকাশ করে মহান স্বাধীনতার উদয়ভূমি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতার নামে নামাঙ্কিত মুজিবনগর উপজেলার ভাবমূর্তি নষ্ট না করতে সবাইকে অনুরোধ জানান।
কমেন্ট বক্স