নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার পৃথকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুড় ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মারুফ হোসেনের মেয়ে মারিয়া (৫), চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ী বনানী পাড়ার কারী আব্দুর রহমানের ছেলে ও বাদুরতলা জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম রহমত উল্লাহ (৩১) এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুন্সিপাড়ার লুৎফরের ছেলে আহাদ (২৩)।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার জুড়ানপুড় ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে নিজের বাড়ির সামনের রাস্তা পার হচ্ছিল মারিয়া। এ সময় ভালাইপুরমুখী একটি ইজিবাইক তার গায়ের ওপর দিয়ে চলে গেলে গুরুতর আহত হয় মারিয়া। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মারিয়াকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি রাখেন। তবে মারিয়ার মাথার আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সসদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শিশুটির শরীরের ওপর দিয়ে ইজিবাইক চলে যাওয়ায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা-ছেড়াসহ মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে। শিশুটির উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকার মহিলা কলেজ পাড়ায় দুই মোটরসাকেলের মুখোমুখী সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন বুজরুকগড়গড়ী বনানী পাড়ার রহমত উল্লাহ ও মুন্সিপাড়ার আহাদ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বাদুরতলা জামে মসজিদে যাচ্ছিলেন রহমত উল্লাহ, অপর দিক থেকে মোটরসাইকেলের পেট্রল কিনে নিজ এলাকার দিকে ফিরছিলেন আহাদ। পথের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ এলাকার লিচুতলা পৌঁছালে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর জখম হন রহমত উল্লাহ ও আহাদ। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন। এ ঘটনায় আহাদের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আরও দুই আরোহী কাটা-ছেড়া ছাড়াই রক্ষা পেলেও আহাদের পায়ের জখম গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশু মারিয়া ও আহাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।