রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এনজিও কর্মীদের অশ্লীল কথার প্রতিবাদ করে হাসপাতালে স্বামী!

  • আপলোড তারিখঃ ১৩-০৩-২০২০ ইং
এনজিও কর্মীদের অশ্লীল কথার প্রতিবাদ করে হাসপাতালে স্বামী!
ঝিনাইদহ অফিস: সময় মতো ঋণ পরিশোধ না করায় টায়ফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ঋণগ্রহীতাকে পা দিয়ে দলিয়ে চটকিয়ে গুরুতর জখম করে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের বেসরকারি সংস্থা ‘সিও’-এর মাঠকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ৮ মার্চ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামে। এ গ্রামের শামছুল ইসলামের ছেলে আক্তারুল ইসলামকে (২৮) মাত্র দুই হাজার টাকার জন্য সিও এনজিওর মাঠকর্মীরা শারীরিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনের ফলে তাঁকে তিন দিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় আক্তারুল একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ার এনজিও সিও-এর গান্না বাজার শাখার মাঠকর্মী সাইফুল ইসলাম, কণক রহমান, হিসাবরক্ষক আসলাম, ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম, ম্যানেজার আব্দুল লতিফ ও অফিসার হাসানকে আসামি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আক্তারুল ওই এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। প্রতি সপ্তাহে তাঁকে ৫৫০ টাকার কিস্তি দিতে হয়। এক মাস টায়ফয়েড জ্বরে আক্রান্ত থাকার কারণে আক্তারুল কিস্তি দিতে পারেননি। এতেই বিগড়ে যান এনজিও কর্মীরা। আক্তারুলের বড় ভাবি গান্না ইউনিয়নের মেম্বার নার্গিস বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন এনজিও কর্মীরা বাড়ির ওপর গিয়ে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ এবং আক্তারুলের স্ত্রী জেসমিন খাতুনের উদ্দেশ্যে পতিতাবৃত্তি করে স্বামীর নেওয়া কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এ কথার প্রতিবাদ করলে এনজিও কর্মীরা তাঁর দেবর আক্তারুলকে ব্যাপক মারধর করেন। তিন দিন ঝিনাইদহ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর আক্তারুল ১১ মার্চ বাড়ি আসেন। মহিলা মেম্বার আরও জানান, এনজিও কর্তৃপক্ষ তাঁর দেবরকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। পাঁচ দিন পর টাকা প্রদান করবে। এনজিও কর্মীদের নির্যাতনের শিকার আক্তারুল জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির মালিথা দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি যে বিচার করবেন, তাই তিনি মাথা পেতে নেবেন। স্থানীয় বেতাই পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘চেয়ারম্যান সমঝোতা করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমরা কিছুদিন ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছি। নির্যাতিত উপযুক্ত বিচার না পেলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’


কমেন্ট বক্স