করোনা : ইতালি ফেরত দম্পতি নিয়ে হুলুস্থুল
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৩-২০২০
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
ইতালি থেকে দেশে ফিরেই ঝিনাইদহের এক দম্পত্তিকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাঁদের নিয়ে শহরে রীতিমতো হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে যায়। এদিকে শহরের হামদহ খোন্দকার পাড়ার এক কাস্টম কর্মকর্তার ছেলেও বাড়ি ফিরে শহরে প্রকাশ্য চলাফেরা করে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার এক জরুরি সভা করেছে। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম এ খবর জানান।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর মাস্টার পাড়ায় ইতালি ফেরত এক দম্পত্তি ঝিনাইদহে ফিরে শহরে মার্কেট করতে বের হন। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগমকে জানানো হয়। সিভিল সার্জন ওই বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠান। সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল কুমার বিশ্বাস বেলা ১১টার দিকে তাঁদের বাড়ি গিয়ে দেখেন, তাঁরা মার্কেট করতে বের হয়েছেন। খবর দিয়ে বাড়ি এনে তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিন্ধান্ত জানানো হয়। তবে তাঁদের কাছে ইতালি স্বাস্থ্য বিভাগের হেলথ কার্ড আছে। তাঁরা করোনা ভাইরাস মুক্ত বলে ইতালি স্বাস্থ্য বিভাগ সনদ দিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, গত ৭ মার্চ কামাল-সোনালী দম্পত্তি ইতালি থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তাঁরা চলে যান স্বামীর বাড়ি যশোরের চৌগাছা শহরে। সেখান থেকে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর মাস্টার পাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে এসে কেনাকাটার জন্য তাঁরা ঝিনাইদহ শহরে বেরিয়ে পড়েন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান, করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ তাঁদের মধ্যে নেই। তাঁরা করোনা ভাইরাস মুক্ত বলে ইতালি সরকারের হেলথ কার্ড রয়েছে। তারপরও অধিক সতর্কতা অবলম্বনের জন্য তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে বিকেল পর্যন্ত হামদহ খোন্দকার পাড়ার এক কাস্টম কর্মকর্তার ছেলের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম, ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে কোনো আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমে আমরা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছি। এ জন্য পরিত্যক্ত ঝিনাইদহ পুরাতন হাসপাতাল এলাকার খাবার স্যালাইন ফ্যাক্টরি, বাস টার্মিনাল এলাকার শিশু হাসপাতাল ও শহরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সচেতনতা বাড়াতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
যাঁরা বিদেশ থেকে আসবেন, তাঁদেরকে নিজ বাসায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়ে সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, লক্ষণ দেখা গেলেই কেবল স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের তত্বাবধানে রোগীদের নেওয়া হবে। তবে এটা নিজেদের বাসাতে করলেই রোগাক্রান্তদের জন্য ভালো হবে বলে তিনি জানান। তিনি ইতালি ফেরত ওই দম্পত্তির খবর শোনা মাত্রই তাঁদের বাড়ি স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠিয়ে দেন বলে জানান। তিনি এও জানান, হামদহ খোন্দকার পাড়ার এক কাস্টমস কর্মকর্তার ছেলের বিষয়েও তথ্য নিতে তাঁদের বাড়িতে লোক পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকেরা জানান, বিদেশ ফেরতদের কাছে করোনা মুক্ত সনদ থাকলেও তাঁরা ঝুকি মুক্ত নয়। কারণ তাঁরা তো অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। সরকারের উচিৎ বিমান বন্দর থেকেই কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া উচিত। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে কেবল তাঁদের মোবাইল ফোন নাম্বার রেখে ১৪ দিন বাসায় থাকতে পরামর্শ দেওয়া হলেও প্রবাসিরা যুক্কি, অজুহাত আর কাজ দেখিয়ে নিজ নিজ শহর বা গ্রামের পাবলিক প্লেসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
কমেন্ট বক্স