জেল থেকে বেরিয়েই শাশুড়িকে কুপিয়ে জখম
- আপলোড তারিখঃ
০২-০৩-২০২০
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলপাড়ায় শ্বাশুড়িকে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে এক জামাই। জেল থেকে বের হয়ে তালাক দেওয়া স্ত্রীকে তুলে আনতে গেলে শাশুড়ি বাধা দিলে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সাবেক জামাই আলী। গতকাল রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত শ্বাশুড়ি নুরজাহান বেগম (৪৫) রেলপাড়ার উজ্জল হোসেনের স্ত্রী।
জানা যায়, তালাক দেওয়া স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন মামলায় এক বছর পর ছাড়া পেয়ে আবারও ওই স্ত্রীকে তুলে আনতে চেষ্টা করেন লম্পট আলী। এ সময় নুরজাহান বেগম তাঁর মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে লম্পট আলী পাশের রান্না ঘরে থাকা একটি ধারালো বটি দিয়ে শাশুড়িকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে জখম করেন। পরে স্থানীয় লোকজন খবর পেয়ে এগিয়ে এলে পালিয়ে যান লম্পট আলী। পরে স্থানীয়রা আহত নুরজাহানকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে ক্ষতস্থানে অসংখ্য সেলাই দিয়ে তাঁকে ভর্তি রাখা হয়।
আহত নুরজাহানের মেয়ে মীম লম্পট আলীর পূর্বের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নফরকান্দি হাজামপাড়ার মসলেমের ছেলে লম্পট আলীর সঙ্গে তাঁর অনেক দিন আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লম্পট আলী তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। আস্তে আস্তে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াসহ বেরিয়ে আসতে থাকে লম্পট আলীর আসল রুপ। অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে পরিবর্তন করতে না পেরে এক সময় আলীর সঙ্গে মীমের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে মীম আবারও অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। ওই বিয়ের পূর্বেও গত এক বছর আগে রেলপাড়াতে এসে একবার নির্যাতন করে গিয়েছে আলী। ওই ঘটনায় সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করা হয়। ওই মামলাতে দীর্ঘদিন জেলে ছিল তিনি। গত দুই-এক দিন আগে ওই মামলাতে ছাড়া পাওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় আলী মীমদের রেলপাড়ার ভাড়ার বাড়িতে আসেন এবং তাঁকে জোরপূর্বক সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় উভয়ের ভেতর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পাশের রান্নাঘরে থাকা ধারালো বটি নিয়ে আলী মিয়া তার শ্বাশুড়ি নুরজাহান বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় নুরজাহাম বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ধারলো অস্ত্রের আঘাতে নুরজাহান বেগমের বাম চোয়ালের অনেক অংশজুড়ে কেটে গেছে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে কোপ লেগেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত নুর জাহান বেগম সদর হাসপাতারে ভর্তি আছেন।
জামাইয়ের বটির কোপে শাশুড়ি জখমের সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ওই আলীকে আটক করতে সদর থানার পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
কমেন্ট বক্স