চুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুরে বার্ষিক ইছালে সওয়াব আজ
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০২-২০২০
ইং
আনিছ বিশ্বাস:
চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী পীরগঞ্জ ঠাকুরপুর মসজিদের বার্ষিক ইছালে সওয়াব আজ মঙ্গলবার। ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবছরের ১২ ফাল্গুন বার্ষিক ইছালে সওয়াব ও হালকায়ে জিকিরের আয়োজন করা হয়। এবারের ইছালে সওয়াবে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন মরহুম গদ্দিনশীন হুজুর (রহ.) পাকশী-এর সাহেব জাদা ও ফুরফুরা দরবার শরীফ-এর ছোট হুজুর আশ শায়েখ ফতেহ আলী মুহা আয়াতুল্লাহ সিদ্দিকী আল কোরাইশী। দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে থাকবেন চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মহিলা কওমি মাদ্রাসার মুহাদ্দিস, বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব ও জেলা উলামা পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তবিদ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী জুনাইদী আল-হাবিবী। তৃতীয় বক্তা হিসেবে থাকবেন ঠাকুরপুর-পীরগঞ্জ জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রশিদ। আর প্রত্যেকবারই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঠাকুরপুর-পীরগঞ্জ ইছালে সওয়াব কমিটি।
এ মসজিদ নিয়ে রয়েছে নানা কল্পকথা। তবে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না এ মসজিদের মূলকাহিনী। চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পীরগঞ্জ ঠাকুরপুর গ্রাম। প্রতিবছরের ১২ ফাল্গুন বার্ষিক ইছালে সওয়াব ও হালকায়ে জিকির তথা বার্ষিক ওরসের আয়োজন করে এলাকাবাসী। খাতা-কলমে এবার ৯৩ বছর হলেও প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান প্রায় ৩শ বছরেরও অধিক সময় ধরে হয়ে আসছে এ আয়োজন। কালক্রমে অবশ্য নাম পরিবর্তন হয়। স্থানটি বর্তমানে পীরগঞ্জ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই নাম পরিবর্তন অবশ্য স্থানীয়দের প্রচেষ্টারই ফসল। ঠাকুরপুরের নাম পীরগঞ্জ করার আড়ালে নিহিত রয়েছে ওই বিশাল আকৃতির গম্বুজ মসজিদটি। ইসলামধর্ম প্রচার করার জন্য যুগে যুগে এলাকায় আলো ছড়িয়েছেন যারা, তাদেরই একজন ছিলেন আপু শাহ্। নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও ১৬৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাথাভাঙ্গা, নবগঙ্গা বেয়ে তিনি যে স্থানটি পছন্দ করে নোঙর করে, মালপত্র নামিয়ে আস্তানা গড়ে তোলেন সেই স্থানটির নাম তখন ছিলো ঠাকুরপুর, এখন এই জায়গারটির নাম পীরগঞ্জ। এখানেই রয়েছে বড় গম্বুজের মসজিদ। হযরত আপু শাহ্ ছিলেন সাধক পুরুষ, গুণীজন। কথিত রয়েছে তারই বিশেষ গুণে মসজিদটি এক রাতেই নির্মিত হয়। এ মসজিদের মূল কাঠামো অক্ষুন্ন রেখেই পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়। সম্প্রসারণের পাশাপাশি আধুনিকায়নেরও ছোঁয়া লেগেছে বিভিন্ন সময় দায়িত্বে থাকা কমিটির নেতৃবৃন্দের বিশেষ উদ্যোগে। প্রধান ফটকটি টাইলস দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি মসজিদের অভ্যন্তরেও লাগানো হয়েছে টাইলস, তৈরি করা হয়েছে ২য় তলা পর্যন্ত। কমিটির নেতৃবৃন্দ ঠাকুরপুরের নাম পীরগঞ্জ করার আড়ালে নিহীত যে বিশাল আকৃতির গম্বুজ মসজিদটিতে রয়েছে তার আদলে আর একটি গম্বুজও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স