প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা, টিলন গ্রেপ্তার হলেও সেণ্টু পলাতক
- আপলোড তারিখঃ
২২-০২-২০২০
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদার গোপালপুরের শারমিন আক্তার জলির আত্মহত্যা ঘটনায় প্রধান আসামি এখনো পলাতক থাকলেও টিলন মিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে দামুড়হুদা থানার পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপালপুর জিহালাপাড়া থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তিনি জলি আত্মহত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি। গ্রেপ্তার টিলন মিয়া (৩০) দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জিহালাপাড়ার মঙ্গল মণ্ডল ওরফে বুড়োর ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপালপুর গ্রামের মুচিপাড়ার মালয়েশিয়া প্রবাসী ইউসুফের স্ত্রী শারমিন আক্তার জলি উত্ত্যক্তসহ হুমকি-ধামকির শিকার হয়ে গত মঙ্গলবার সকালে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। ওই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে একই এলাকার সেণ্টুর নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দামুড়হুদা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আত্মহত্যার মোটিভ উন্মোচনসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপালপুর জিহালাপাড়া থেকে টিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। টিলনকে জলির আত্মহত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন শুক্রবার সকালে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস আসামি টিলনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপালপুর গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন আক্তার জলির আত্মহত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি টিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। জলি আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জিহালাপাড়ার নারী উত্ত্যক্তকারী সেণ্টু দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মুচিপাড়ার মালায়েশিয়া প্রবাসী ইউসুফের স্ত্রী শারমিন আক্তার জলিকে হুমকি-ধামকিসহ উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। গত সোমবার রাতে জলির পরিবার সেণ্টুকে ডেকে এ বিষয়ে নিষেধ করলে ওই রাতেই সেণ্টু কুপ্রস্তাবসহ হুমকি-ধামকি দেন জলিকে। দিনের পর দিন সেণ্টুর অত্যাচার সইতে না পেরে গত মঙ্গলবার সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন জলি। প্রথমে উত্ত্যক্তকারী সেণ্টুর পক্ষের লোকজন এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ জলির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন বিকেলেই জলির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে এশার নামাজের পর লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
কমেন্ট বক্স