ছয় মৃত ব্যক্তিসহ ২০ জনের নামে ভুয়া ঋণ উত্তোলন!
- আপলোড তারিখঃ
১০-০২-২০২০
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
ঋণ না নিয়েও ঋণী হয়ে পড়েছে কালীগঞ্জের ২০টি পরিবার। এসব পরিবারের সদস্যরা কেউ ২২ বছর আগে, কেউ ১২ বছর আগে মৃত্যুবরণ করলেও তাঁদের নামে ঋণ তুলে ৬ লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা অফিসের আব্দুল হামিদ।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জের আজগার আলীর পিতা আনোয়ার হোসেন ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১২ বছর আগে। সেই মৃত ব্যক্তির নামে চার বছর আগে ঋণ উত্তোলন দেখানো হয়েছে। একইভাবে নিতাই কুমার মারা গেছেন প্রায় ২২ বছর আগে। তার নামেও চার বছর আগে ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা অফিসের আব্দুল হামিদ এভাবে ৬ জন মৃত ব্যক্তিসহ ২০ জনের নামে ৬ লাখ টাকা ভুয়া ঋণ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ নামের ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, টাকাগুলো মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা নিয়েছিল। যা ইতিমধ্যে পরিশোধ হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের দরিদ্র ২০ ব্যক্তির নামে ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই ঋণের টাকাও উত্তোলন করা হয় ডিসেম্বরে। এদের মধ্যে ৬ জন আছেন, যাঁরা এই ঋণ বরাদ্দ ও উত্তোলনের অনেক আগেই মারা গেছেন। এঁরা হলেন দলিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সাত্তার, মকলেচুর রহমানের ছেলে আবুল হোসেন, আফজেল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, তৈয়ব আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম, হিরু লালের ছেলে নিতাই কুমার ও মানিক চন্দ্রের ছেলে শক্তিপদ। এছাড়া আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল বারিক পাঁচ বছর ধরে বিদেশে রয়েছেন। তাঁর নামে চার বছর আগে ঋণ উত্তোলন দেখানো হয়েছে।
গোপিনাথপুর গ্রামের ব্যাংকার রেজাউল করিম জানান, তাঁর নামেও ঋণ দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি এর কিছুই জানেন না। একই গ্রামের আজগার আলী জানান, তাঁর পিতা ১২ বছর আগে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান। কিন্তু তাঁর মৃত পিতার নামেও ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। একই গ্রামের শাহাদত হোসেন জানান, তাঁর পিতা আব্দুস সাত্তার ঋণের টাকা উত্তোলনের আগেই মারা গেছেন। সম্পূর্ণ ভুয়াভাবে এই ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।
ব্যাংকার রেজাউল করিম আরও জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে আব্দুল হামিদ নামের ওই কর্মকর্তা এসে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলেছেন। তিনি ইতিমধ্যে টাকাও পরিশোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রেজা জানান, যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তদন্ত কাজে তাঁরা অসহযোগিতা করছেন। তারপরও তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তদন্ত রির্পোট জমা দিয়েছেন।
কমেন্ট বক্স